ভোলা প্রতিনিধি:: ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ উপলক্ষে সতর্কতা হিসেবে নদী ও সাগরে অবস্থান করা জেলেদের তীরে ফিরিয়ে আনতে প্রচারণা চালাচ্ছে কোস্ট গার্ড। আজ শুক্রবার সকাল থেকে ভোলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় এ প্রচারণা চালান কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা। এ সময় তারা জেলেদের সতর্ক করতে মাইকিংয়ের পাশাপাশি আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে সতর্ক করেন।
আজ শুক্রবার সকালে ভোলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নদীর পানি স্বাভাবিক রয়েছে। জেলেরাও মাছ শিকার করছেন নদীতে। তবে সমুদ্রগামী অনেক জেলে আবহাওয়ার সংবাদ শুনে ঘাটে ফিরে এসেছেন। অনেকে এখনো সাগরে রয়েছেন। এ সময় বিভিন্ন মাছঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, নদী ও সাগরে থাকা জেলেদের সতর্ক করতে মাইকিং করছেন কোস্ট গার্ড সদস্যরা। যাতে করে গভীর সমুদ্রে থাকা জেলেরা নিরাপদে ফিরে আসতে পারে। এ ছাড়া জেলেরা যারা সাগরে বা দূরবর্তী স্থানে রয়েছে, তাদের নিরাপদ স্থানে সরে আসতে ঘাটের আড়তদার ও পরিবারের মাধ্যমে খবর পাঠানো হচ্ছে।এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক বার্তা শুনে আতঙ্কে রয়েছে উপকূলের মানুষ। ইতিমধ্যে জেলেরা তাদের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে আসতে শুরু করেছেন।
কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের অপারেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট মেহেদী হাসান জানান, ঘূর্ণিঝড় মোখা বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে। তাই উপকূলীয় অঞ্চলের কাছাকাছি থেকে সব নৌযানকে চলাচল করতে বলা হয়েছে এবং গভীর সমুদ্রে অবস্থানকারী সব মাছ ধরার ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। গভীর সমুদ্রে অবস্থান করা মাছ ধরার ট্রলার যারা ভিএফএস রেডিও সেট ব্যবহার করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা উপকূলে ফেরত আসছে। আর যাদের কাছে ভিএফএস রেডিও নেই, তাদের ক্ষেত্রে মাছঘাট ও মৎস্য মালিক সমিতির মাধ্যমে বার্তাটি পৌঁছানো হয়েছে। তারাও তীরে ফেরত আসছে বলে মালিক সমিতি নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া প্রতিটি মাছঘাটে কোস্ট গার্ড সদস্য মাইকিং করছে।
ভোলা সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন জানান, সমুদ্রগামী জেলেদের তীরে ফিরিয়ে আনতে কোস্ট গার্ড ও সিপিপি সদস্যদের মাধ্যমে প্রতিটি ঘাটে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ জেলে তীরে ফিরে এসেছে। বাকিরাও দ্রুত চলে আসবে। অপরদিকে নতুন করে যাতে কোনো জেলে সাগরে যেতে না পারে, সে ব্যাপারে নজর রাখা