বরগুনা প্রতিনিধি:: সৌদির সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগেই বরগুনার বেতাগী উপজেলার ১০টি গ্রামে পালিত হয়েছে ঈদুল আজহা। বুধবার সকাল ৮টায় উপজেলার কাজিরাবাদ ইউনিয়নের বকুলতলী গ্রামে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন হাফেজ মো. রমজান আলী।
ইমাম মো. রমজান আলী বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারো আমরা সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহা পালন করছি। আমরা ইদুল ফিতরও পালন করেছিলাম একদিন আগে। এবারো কাজিরাবাদের বকুলতলীতে আমি ঈদের নামাজ পড়িয়েছি। নামাজে শতাধিক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।
জানা যায়, প্রায় শতবর্ষ আগে থেকে সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে উপজেলার সদর ইউনিয়নের খন্তাকটা, লক্ষীপুরা, গ্রেদ লক্ষীপুরা, কাজিরাবাদ ইউনিয়নের কাজিরাবাদ, বকুলতলী, বুড়ামজুমদারের কাজির হাঁট ও হোসনাবাদ ইউনিয়নের আনোর জলিশা, সরিষামুড়ি ইউনিয়নের উত্তর কালিকাবাড়ি, ভোড়া এলাকারএকটি অংশের প্রায় ১০ গ্রামের চিশতিয়া কাদেরীয়া সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার অনুসারীরা অগ্রিম রোজা ও অগ্রিম ঈদ এবং এবারে ঈদুল আজহা পালন করেছেন। প্রথমদিকে মুসল্লির সংখ্যা কম থাকলেও প্রতিবছরই এ সংখ্যা বাড়ছে।
কাজিরাবাদ ইউনিয়নের বকুলতলী গ্রামের বাসিন্দা মো. গোলাম সরোয়ার বলেন, প্রায় ১০০ বছর ধরে তারা সৌদির সঙ্গে মিল রেখে এক দিন আগে আমরা রোজা, ঈদ ও এবারে ঈদুল আজহা উদযাপন করেছি। বাংলাদেশের সাতকানিয়া থানার মির্জাখিল দরবার শরিফের নির্দেশে তারা এইভাবে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছি।সদর ইউনিনের খোন্তাকাটা গ্রামের বাসিন্দা আলী আহম্মদ আকন বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছি। তাই এখনো সেই নিয়মই পালন করছি।
বেতাগী উপজেলা পরিষদ মসজিদের খতিব ও ইমাম প্রভাষক আব্দুল হাই নেছারি বলেন, এখানে কিছু মানুষ সৌদির সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন। এটি তাদের দীর্ঘদিনের রীতি।