ভোলা প্রতিনিধি:: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় সামিয়া খাতুন নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পরেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন ওই গৃহবধূর স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুলার হাট থানার ওসি মো. আনোয়ারুল হক। এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত সামিয়া ওই ওয়ার্ডের মো. নূর মোহাম্মদের স্ত্রী ও পার্শ্ববর্তী নুরাবাদ ইউনিয়ন ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আবুল কাশেমের মেয়ে।সামিয়ার বড় ভাই মো. আনোয়ার হোসন জানান, তার ভগ্নিপতি নূর মোহাম্মদ পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন। যা নিয়ে প্রায়ই সামিয়ার সঙ্গে তার ঝগড়া হত। পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়াতে নূর মোহাম্মদ একাধিকবার তার বোনকে মারধরও করেছিলেন।
তিনি আরো জানান, ১০ দিন আগেও এরই জেরে নূর মোহাম্মদ সামিয়াকে আবারো মারধর করেন। স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে বাবার বাড়িতে চলে আসেন সামিরা। এর একদিন পর স্থানীয় সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে নূর মোহাম্মদ সামিয়াকে আবারো তার বাড়িতে নিয়ে যান।একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সামিয়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয়, সামিয়া ভীষণ অসুস্থ। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কিছুক্ষণ পর আনোয়ার গিয়ে দেখেন চৌকির ওপর পড়ে আছে সামিয়ার মরদেহ। তবে বাড়ি থেকে পালিয়েছেন নূর মোহাম্মদ ও তার বাবা-মা। তার দাবি, সামিয়াকে পিটিয়ে মেরে পালিয়েছেন তারা।
দুলার হাট থানার ওসি মো. আনোয়ার হক জানান, গৃহবধূ সামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।