অনলাইন ডেস্ক:: ভারতীয় তরুণী কারিশমা। তিন বছর আগে ফেসবুকে আশরাফুলের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। পরিচয় থেকে প্রেম। সেই সম্পর্ক জানাজানি হলে বাধ সাধেন কারিশমার বাবা। বাবাকে বুঝিয়ে রাজি করান কারিশমা। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় সীমান্তের কাঁটাতার আর দুজনের জাতীয়তা। তবে এসব বাধা পেরিয়ে বাংলাদেশি প্রেমিক আশরাফুল আলমের বাড়িতে এসেছেন কারিশমা শেখ। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়েও করেছেন তারা।

কারিশমা শেখ ভারতের আসামের শোনিতপুর বালিডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল কাশিম শেখের মেয়ে। আর আশরাফুল আলম সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের চরগাঁও গ্রামের আলফাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দীগেন্দ্র বর্মণ সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।জানা যায়, তিন বছর আগে কারিশমার সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় আশরাফুলের। এরপর তাদের প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্ক জানাজানি হওয়ার পর অন্য দেশের ছেলে হওয়ায় বাধসাধেন কারিশমার বাবা। বাবাকে বুঝিয়ে রাজি করান কারিশমা। এরপর মেনে নেয় দুই পরিবার। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় সীমান্তের কাঁটাতার আর দুজনের জাতীয়তা। অবশেষে সব বাধা পেরিয়ে পরিবারের সহযোগিতায় গত ১৬ জুলাই বেনাপোল সীমান্ত হয়ে বৈধপন্থায় আশরাফুলের বাড়িতে আসেন কারিশমা। বাংলাদেশে এসে ১৯ জুলাই সুনামগঞ্জ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এবং ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে করেন তারা। বাঙালি যুবককে বিয়ে করায় বৈবাহিক সূত্রে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব চান কারিশমা শেখ।

ভারতীয় তরুণী কারিশমা শেখ বলেন, তিন বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের পরিচয় হয়। তারপর আমাদের দুজনের ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যায়। প্রথমে আমার পরিবার বিষয়টি না মানলেও আশরাফুলের পরিবারের আশ্বাসে মেনে নেয়। বাবার সহযোগিতায় তিন মাসের ভিসা নিয়ে আমি বাংলাদেশে এসেছি। অনেক ঝুঁকি নিয়ে আসতে হয়েছে। বাংলাদেশে আসার পর আশরাফুলের পরিবার আমাকে মেনে নিয়েছে এবং আমরা বিয়ে করেছি। স্বামীর সঙ্গে বাংলাদেশে থাকতে চাই। আমি বাংলাদেশের সরকারের কাছে নাগরিকত্ব দাবি করছি।এদিকে ভারতীয় তরুণীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে আশরাফুল আলমও বেশ খুশি। আজীবন একসঙ্গে থাকতে স্ত্রী কারিশমা শেখকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদানে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ এই প্রেমিক তরুণ।

আশরাফুল আলমের বাবা আলফাজ উদ্দিন বলেন, আমারও তিন মেয়ে, তাদের বিয়ে দিয়েছি। যেহেতু মেয়েটি তার দেশসহ সবকিছুর মায়া ত্যাগ করে এ দেশে এসেছে, তাই মেয়েটিকে আমরা মেয়ে হিসেবে মেনে নিয়েছি। আমরা চাই তারা সংসার জীবনে সুখী হোক। আমার ছেলে বউয়ের নাগরিকত্বের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করব।বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে ওই তরুণী বৈধভাবে বাংলাদেশে এসেছেন কি না সে বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হবে।