স্টাফ রিপোর্টার: বাকেরগঞ্জের পেয়ারপুর বাজার এলাকায় এক কাতার প্রবাসীকে মোবাইলে ডেকে নিয়ে জিম্মি ও মারধোর করে সাথে থাকা নগদ ৪৫ হাজার টাকা, হাতের একটি স্বর্ণের আংটি এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল রেখে ছেড়ে দিয়েছে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। এ সময় আরো ১০ লাখ টাকা দাবি করলে ঐ প্রবাসী তাৎক্ষণিক তা দিতে না পারায় তিনটি সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে দেয় তারা। পরবর্তিতে টাকা দিয়ে ঐ ষ্ট্যাম্প ফেরৎ নিতে হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। এমন অভিযোগ উল্লেখ করে বরিশাল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী কাতার প্রবাসী মোঃ মিজান হাওলাদারের স্ত্রী পুতুল বেগম। মামলা নং ৫৪৫/২০২৩।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই রাতে শ্যালকের বাসায় দাওয়াত খেয়ে যাওয়ার সময় মিজান এর  মোবাইলে একটি ফোন আসে। কিছুক্ষণ পর তাকে ঘিরে ধরে হানুয়া গ্রামের মৃত সেকান্দার আলীর পুত্র সোহেল খান, মৃত জয়নাল খা’র পুত্র জাকির খান, হারুন, ফোরকান, ফিরোজ সহ আরে ৪/৫ জন। পরে তাকে নিয়ে যায় পেয়ারপুর বাজার লঞ্চ টার্মিনালের নির্জন জায়গায়। প্রথমে কিছু বুঝে ওঠার আগেই মিজানকে  বেধরক মারধোর করা হয়। এরপর তাকে একটি পরকীয়ায় জড়িত বলে বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয় এবং তা  মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। পরে তার কাছে থাকা ৪৫ হাজার টাকা , স্বর্ণের আংটি ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেল রেখে দেয়। মিজানের স্ত্রীকে ফোন দিয়ে ১০ লাখ টাকা নিয়ে তার স্বামীকে ছাড়িয়ে নিতে বলা হয়। মিজানের স্ত্রী না আসলে তিনটি সাদা ষ্ট্যাম্পে মিজানের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। মুক্তিপণের ১০ লাখ টাকা দিলে এই ষ্ট্যাম্প ফেরৎ দেওয়া হবে বলে মিজানের মোটরসাইকেল ও ৪৫ হাজার টাকা রেখে নিজামকে ছেড়ে দেয়। রাত আড়াইটার দিকে মিজান ফেরার সময় দেখা হয় বাকেরগঞ্জ থানার টহল পুলিশের সাথে। তাদের কাছে ঘটনা খুলে বললে মিজানকে থানায় অভিযোগ দিতে বলেন্
ভুক্তভোগী কাতার প্রবাসী মিজান হাওলাদার বলেন, ওরা পেশাদার সন্ত্রাসী। আমি একজন প্রবাসী হওয়ায় আমার টাকার উপরে ললুপ দৃষ্টি পড়ে। বেশ কিছুদিন যাবতই ওরা আমাকে ফলো করছিল। অবশেষে আমাকে অপহরণ করে দশ লক্ষটাকা মুক্তিপণের শর্তে তিনটি সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছে। আমার সাথে থাকা মোটরসাইকেল ও টাকা রেখে দিয়েছে। দশ লাখ টাকা না দিলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে। এখন প্রতিটি মুহুর্ত আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় অভিযুক্তদের নামে এর আগেও অপহরণ, চাঁদাবাজীর অভিযোগে মামলা করেন আরেক ভুক্তভোগী মোঃ আলাউদ্দিন খান। সেখানে তাকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে মারধর করে সাথের টাকা রেখে দিয়ে সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে দেওয়া হয়। সে ঘটনায় জাকির খান, সোহেল খান, হারুন সহ কয়েকজন নেতৃত্ব দেন। বরিশাল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা নং ৪৭০/২০২৩।