অনলাইন ডেস্ক:: তালাবদ্ধ ঘর থেকে বাতাসে ভেসে আসে দুর্গন্ধ। সেই গন্ধের সূত্র ধরে নিজ ঘরেই মেলে মাটিচাপা দেওয়া মর্জিনার অর্ধগলিত লাশ। তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মেঝেতেই পুঁতে রাখা হয় মরদেহ। আর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মর্জিনার মা, ছেলে ও পুত্রবধূ। শুধু তাই নয়, মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন তার মা।এমন ঘটনা বগুড়ার ধুনট উপজেলার চাঁন্দারপাড়া গ্রামের। লাশ উদ্ধারের দিনই মর্জিনার মা রওশন আরাকে গ্রেফতার করা হলেও পলাতক ছিলেন তার ছেলে ও পুত্রবধূ। তাদেরকেও গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার সাভারের আশুলিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নিহত মর্জিনার ছেলে ২২ বছরের রাব্বি ও তার স্ত্রী ২০ বছরের নুপুর। বগুড়ার র‌্যাব-১২ ও ঢাকার র‌্যাব-৪ এর যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আর এ অভিযানে সহায়তা করে র‌্যাব সদর দফতর (ইন্ট উইং)।রাব্বি ও নুপুরকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া র‌্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার মো. নজরুল ইসলাম।

৩৫ বছরের মর্জিনা খাতুন স্বামী পরিত্যক্তা ছিলেন। ফলে মায়ের বাড়িতেই বসবাস করতেন তিনি।মর্জিনার মায়ের নাম রওশন আরা। গত ২২ জুলাই তাকে ঢাকা থেকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। একইদিন তার ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে মর্জিনার লাশ পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মর্জিনাকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেন রওশন আরা। এরপর তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে পরদিন আদালতে পাঠানো হলে সেখানে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। এ ঘটনার পর থেকেই রাব্বি ও নুপুরকে গ্রেফতারে তৎপর হন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

র‌্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই থেকে মর্জিনাদের বাড়িতে তালা ঝুলছিল। তার পরিবারের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে ঐ বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে ঐ বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ। পরে ঘরের কাঁচা মেঝে খনন করে মর্জিনার লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে, মর্জিনার মা ও ছেলে-পুত্রবধূকে বিষয়টি মুঠোফোনে জানানো হলেও তারা বগুড়ায় আসেননি। একপর্যায়ে তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ করে রাখেন। এ ঘটনায় গত ২৩ জুলাই অজ্ঞাত আসামি করে ধুনট থানায় মামলা হয়।

ধুনট থানা পুলিশ জানায়, গত ৩০ জুন মর্জিনাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ মাটিচাপা দিয়ে মর্জিনার মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যান। পারিবারিক কলহে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।ধুনট থানার ওসি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধারের দিনই রওশন আরাকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেন তিনি। পরে আদালতে পাঠালে সেখানেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন রওশন আরা।

র‌্যাব কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পলাতক থাকা রাব্বি ও নুপুরকে গ্রেফতার করতে অভিযান শুরু করা হয়। একপর্যায়ে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হই আমরা। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন রাব্বি ও নুপুর। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদেরকে ধুনট থানায় হস্তান্তর করা হবে।ঠানো হয়েছে।