গাজীপুর প্রতিনিধি:: গাজীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে গত ২৪ নভেম্বর স্ত্রী রেশমা আক্তারকে হত্যার পর লাশ বাড়ির উঠানে মাটিচাপা দেন বেলায়েত হোসেন। এ ঘটনার একমাত্র সাক্ষী তার মা জোবেদা খাতুন। ঘটনার ১১ দিন পর ছেলেকে নিয়ে সোমবার রাতে থানায় হাজির হন তিনি। তার পরামর্শে ছেলে আত্মসমর্পণ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে রাতেই লাশ উদ্ধার করে। গাজীপুর মহানগরীর মেট্রো থানার হাড়িনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।বেলায়েত হোসেন গাজীপুর সদরের হাড়িনাল দক্ষিণপাড়ার আমজাদ হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থেকে সবজি বিক্রি করেন। তিনি সদরের পাকুরিয়া এলাকার মৃত হরমুজ আলীর ছেলে। আর তার স্ত্রীর রেশমা নাটোরের আব্দুল জব্বারের মেয়ে।
পুলিশ জানায়, হাড়িনাল এলাকায় সীমানাপ্রাচীর ঘেরা ভাড়া বাড়িতে মা ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন বেলায়েত হোসেন। ওই বাড়িতে আর কেউ থাকত না। গত ২৪ নভেম্বর তাদের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বেলায়েত। পরে বাড়ির উঠানে মাটি খুঁড়ে স্ত্রীর লাশ চাপা দেন।
ওই ঘটনার পর থেকে অনুশোচনায় ভুগতে থাকেন বেলায়েতের মা জোবেদা। সোমবার রাত ৯টার দিকে ছেলেকে নিয়ে গাজীপুর সদর থানায় যান তিনি। এ সময় তারা হত্যার ঘটনা পুলিশকে জানান। পরে তার পরামর্শে বেলায়েত আত্মসমর্পণ করেন। বেলায়েতের দেওয়া তথ্যমতে, রাতেই পুলিশ গিয়ে রেশমার লাশ উদ্ধার করে।
গাজীপুর সদর থানার ওসি জিয়া ইসলাম বলেন, সোমবার রাতে বেলায়েতকে নিয়ে তার মা জোবেদা খাতুন থানায় আসেন। তিনি ঘটনা খুলে বলেন। এ সময় তার কথায় বেলায়েত আত্মসমর্পণ করেন। পরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতা পাই। বেলায়েতের দেখানো মতে মাটির নিচ থেকে লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।