ছবি: আপডেট নিউজ বিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মা নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হাফিজা খাতুন (৩৮) নামের এক আয়াকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় ঘাতক স্বামী কবির হোসেন (৩৮) পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। শনিবার (২৭শে জানুয়ারি ২০২৪ খ্রি.) রাত ১১টার দিকে জীবননগর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে আটক করে জীবননগর থানা পুলিশ।

আটককৃত কবির হোসেন জীবননগর উপজেলার বালিহুদা গ্রামের প্রাইমারি স্কুলপাড়ার জাকের আলীর ছেলে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যার কাজে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি। পারিবারিক কলহের কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম জাবীদ হাসান আসামি আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রবিবার বিকালে আটককৃত আসামি কবির হোসেনকে চুয়াডাঙ্গার বিজ্ঞ আদালতে সোপার্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জীবননগর থানায় দায়েরকৃত মামলার বাদী হয়েছেন নিহতের পিতা শমসের আলী।

এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মা নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ২য় তলায় হাফিজা খাতুনকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। সহকর্মীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হত্যার খবর শোনার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় জীবননগর থানা পুলিশ।

পরবর্তীতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) নাজিম উদ্দিন আল আজাদ এবং সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) জাকিয়া সুলতানা। নিহত হাফিজা খাতুন জীবননগর উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের শমসের আলীর মেয়ে এবং বালিহুদা গ্রামের কবির হোসেনের স্ত্রী। তবে কবির হোসেন তাঁর ২য় স্বামী ছিল। হাফিজা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে মা নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আয়ার কাজ করতেন।

১ম স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের পর আনুমানিক ১০ বছর ধরে তিনি মা নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আয়ার কাজ করতেন এবং নার্সিং হোমেই থাকতেন। এরই মাঝে পরিচয় হয় কবির হোসেনের সাথে। তাকেও বিয়েও করেন। কিছুদিন ধরে কবির হোসেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হাফিজাকে সন্দেহ করা শুরু করেন। এ নিয়ে তাদের মাঝে ঝগড়া-বিবাদও হতো। শনিবার সকালেও তাদের মাঝে নার্সিং হোমেই ঝগড়া হয়। একইদিন রাতে খুন হন হাফিজা। এদিকে হত্যাকাণ্ডের আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকারীকে আটক করতে সক্ষম হওয়ায় জীবননগর থানা পুলিশের ভাবমূর্তি হয়েছে আরও উজ্জ্বল।

আমিনুর রহমান নয়ন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।