স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল নগরীতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে পূণরায় বরিশাল বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন সহকারী জেলা জজ আদালত। বাদীর অভিযোগ, দুই দফা স্থিতাবস্থা জারী করার পরও নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে অভিযুক্তরা। এদিকে বিমানবন্দর থানা পুলিশ আদালতের নির্দেশনা থাকার পরেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। উল্টো আসামীপক্ষ তাদের নির্মাণকাজের গতি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এসব বিষয়ে বাদীপক্ষ গতকাল কাজ স্থগিত ও নকশা বাতিলের দাবি জানিয়ে আরেকটি অভিযোগ দিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশন মেয়র এর কাছে।

মামলার বাদী গাজী মাইনউদ্দিন জানান, ২০১৮ সালে আদালতে বন্টন মামলা করেছেন তিনি। যার মামলা নং ১১৮/২০১৮। বরিশাল নগরীর ২৯ নং ওয়ার্ড ইছাকাঠী, কাশিপুর আনসার অফিসের পূর্ব পার্শ্বে জমি নিয়ে আদালতে দীর্ঘদিন যাবত মামলা চলমান। মামলা এ অবস্থায় বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করছেন প্রতিপক্ষ সৈয়দা ফেরদৌসী গং। কাজ বন্ধের জন্য গত ২৯ নভেম্বর দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ আদেশের ১/২ নিয়ম ও ১৫১ ধারার বিধান মতে ৫/৬নং বিবাদীদের বিরুদ্ধে অস্থায়ী ও অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হলে বরিশাল মোকাম সহকারী জজ আদালত মুলাদী এর বিচারক স্থিতাবস্থা র আদেশ দেন।

এছাড়া বর্ণিত ভূমিতে উভয় পক্ষের প্রতি স্ব-স্ব ভোগ দখল অনুযায়ী মোকদ্দমা চূড়ান্ত নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন।

বাদীর দাবী, বরিশাল সদর এর জে এল ১৩ নং ইছাকাঠী মৌজার, এস এ ২৪১ নং খতিয়ানের হাল ১১৮৮, ১১৮৯, ১১৮৪ ও ১১৯০ দাগসহ একাধিক দাগ থেকে ৩.৯৬ একর ভূমি বিরোধীয়। জমির শ্রেণি নাল, ভিটা ও পুকুর। তফছিল বর্ণিত বিরোধীয় ভূমি সম্পর্কে বাদীগণের স্বত্বের ঘোষণামূলক ও বন্টনের ডিক্রী পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারধীন আছে বরিশালের দেওয়ানী আদালতে। মামলা নিস্পত্তি না হলেও অদৃশ্য শক্তির প্রভাব খাটিয়ে বিরোধীয় সম্পত্তির কিছু অংশ বিক্রিও করা হয়েছে বলে দাবী মামলার বাদীর। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ভবন নির্মান কাজ চলাকালীন স্থানীয় থানা পুলিশ কাজ বন্ধ করে দেন। পুলিশ চলে গেলে ফের শুরু করেছেন নির্মান কাজ। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে এখনো চলছে ভবন নির্মাণের কাজ। মামলার বাদী প্রতিকার চেয়ে পুলিশ কমিশনারসহ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন।