রেহমান রাজু: পটুয়াখালী জেলা কারাগারের অফিসের জানালা যেন এক মহা বানিজ্যের দুয়ার। মাদক কারবার থেকে শুরু করে সবকিছুরই লেদদেন চলে এই জানালা দিয়ে। সারাদিনই চলে এই বানিজ্য। তবে হাট-বাজারের অবস্থা হয় বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত। এই জানালর নিয়ন্ত্রনে পটুয়াখালী জেলা কারাগারের একজন ডেপুটি জেলার, বকসি কারারক্ষী ও কালেকশন ম্যান কারারক্ষী।
তারা মানুষকে নানাভাবে ধোকা দিচ্ছে। জামিনের কাগজ আসতে দেরির কথা বলে আজকে আসামি বের হবে না। জমিনে ভুল আছে। পুনরায় জামিন করাতে হবে। হাইকোর্টে যেতে হবে বলে গরীব অসহায় মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্র। এছাড়া আসামিকে জামিননামা আসার আগে বের করে রাখে।
অনেক মাদক সেবী আসামীকে জানালা দিয়ে মাদক পাচার করে । রাত নেই দিন নেই হুট করে কারাঅভ্যন্তরে মাদক দিয়ে আসেন। টাকা হলে তার কাছে সব সম্ভব। টাকার বিনিময়ে কুখ্যাত ডাকাত রিপনের স্ত্রীকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করে। ডাকাত রিপনের স্ত্রীর সাথে কথা বলে। বকসি জাহিদ অসহায় বন্দীদের স্ত্রীর সাথে পরকিয়ায় লিপ্তের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পটুয়াখালী জেলা কারাগারের জেলার মোঃ মোস্তফা কামাল দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ্য । তিনি স্ট্রোক করে ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন। এ সুযোগে ডেপুটি জেলার, বকসি সোহেল, জাহিদ মিলে কারাগারকে একটা দূর্নীতির আখড়া বানিয়েছে ।
গত ২৯ মে তারিখ তুহিন বড়ুয়া পিতা- কালাম ,টাউন জৈনকাঠী, থানা ও জেলা পটুয়াখালী তার হাইকোর্টের জামিন-এ ভুল আছে বলে দশ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে তিন হাজার টাকা কমিয়ে সাত হাজার টাকায় রফা হয়। যদি হাইকোর্ট ভুল করে তাহলে তারা সে ভুল সারলো কিভাবে?
মোশারেফ পিতা- ছত্তার ,গাবুয়া, থানা ও জেলা – পটুয়াখালী তারও একই সমস্যা । গত ২৯ মে এসব ঘটনা ঘটে। একই দিনে জেল সুপারকে না জানিয়ে একটা জামিন নামায় জেল সুপার যায়গায় ডেপুটি জেলার ইব্রাহিম স্বাক্ষর করে ১৭ হাজার টাকার বিনিময়ে বকসি সোহেলকে দিয়ে বরগুনা কারাগারে লাল মিয়া নামের একটি জামিন পাঠানো হয়। কারা হাসপাতালে সুস্থ্য বন্দিদের ভর্তি রেখে মশারী দিবে, খাট দিবে বলে মোটা অংকের ঘুষ নেয়া হয়।
জামিনে মুক্তি পেয়ে নাম না প্রকাশের শর্তে এক বন্দি বলেন, ‘কারা হাসপাতাল কোনও অসুস্থ বন্দির জায়গা নয়। বিত্তবান সুস্থ্য বন্দিরা টাকার বিনিময়ে অসুস্থ হয়ে আরাম আয়েশে থাকেন সেখানে।