অনলাইন ডেস্ক ::কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুইদিনে বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরের কামড়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান বাচ্চুসহ ৩৬ জন আহত হয়েছেন। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকাল থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত শহরের পঞ্চবটী, ঘোড়াকান্দা, ভৈরবপুর, ফেরিঘাট ও চন্ডিবের এলাকার বাসিন্দাদের নির্বিচারে কামড়ায় কয়েকটি পাগলা কুকুর। ওই সময় স্থানীয়রা দুইটি পাগলা কুকুরকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন।

পাগলা কুকুরের কামড়ে আহতরা হলেন- অধ্যাপক শামসুজ্জামান বাচ্চু, আউলাদ, মুসা মিয়া, সুমন, কাউসার, আবুল মিয়া, রুবেল, কাইসার, লাইছ মিয়া, আবুল কাশেম, মনির হোসেন, আসাদ, হোসেন আলী, আরমান, তৌহিদ, আবুবকর সিদ্দিক, রাব্বি, সাব্বির, শহিদুল্লাহ, সানি, সূর্য ও মানিক, সৌরভ, রোহান , মিস্টার, শান্ত, কালা মিয়া, সোলাইমান, আরাফাত, নবী হোসেন, আতিকুল, বর্ন, মোস্তফা জামান, রাকিব।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে আজ বুধবার দুপুর পর্যন্ত শহরের ওইসব এলাকার পথচারিদের আচমকা কামড়াতে থাকে কয়েকটি পাগলা কুকুর। কুকুরগুলোর নির্বিচার কামড়ে লোকজন আহত হতে থাকলে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখন লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে কুকুরগুলোকে তাড়া করলে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ঢুকে নারী, পুরুষ ও শিশু-কিশোরদের কামড়াতে থাকে।

এ বিষয়ে ভৈরব পৌরসভার মেয়র ইফতেখার হোসেন বেনু বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি আমি অবগত হয়েছি। কিন্ত উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কুকুর মারার অধিকার পৌর কর্তৃপক্ষের নেই। তবে জনতা যদি পাগলা কুকুরগুলোকে মেরে ফেলে আমাদের কিছুই করার নেই।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার বুলবুল আহম্মদ বলেন, পাগলা কুকুরের কামড়ে সাধারণত প্রত্যেককে ভ্যাকসিন ও আইজি দিতে হয় পাঁচটি করে। আমার হাসপাতালে এত পরিমাণ ভ্যাকসিন ছিল না। আর আইজি থাকে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে। পরবর্তীতে তাদের চিকিৎসার জন্য আমি জরুরি ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করে আজ বুধবার আইজি ও ভ্যাকসিন হাসপাতালে আনার ব্যবস্থা করেছি।