অনলাইন ডেস্ক:: যৌতুকের জন্য ফজিলাতুন নেছা (২৪) নামের এক গৃহবধূর গায়ে আগুন দিয়েছেন স্বামী গোলাম রাব্বানী। আগুনে ওই গৃহবধূর শরীরের বিভিন্ন জায়গা পুড়ে গেছে। বর্তমানে ওই গৃহবধূ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি আছেন। ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত গোলাম রাব্বানীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার ভবানীপুর মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অগ্নিদগ্ধ ফজিলাতুন নেছা সদর উপজেলার কোমইগাড়ী সাকিদারপাড়ার ফজলুর হোসেনের মেয়ে।

বুধবার ফজিলাতুন নেছার বাবা ফজলুর হোসেন বাদী হয়ে গোলাম রাব্বানীসহ তার পরিবারের চার সদস্যর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। গোলাম রাব্বানীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিকভাবে চার বছর আগে সদর উপজেলার ভবানীপুর মধ্যপাড়া গ্রামের আতোয়ার রহমানের ছেলে গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে বিয়ে হয় ফজিলাতুন নেছার। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরই গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে পরকীয়া প্রেমে জড়ানোর অভিযোগ ওঠে। তার স্ত্রী নিষেধ করলে পরকীয়া করবেন না বলে যৌতুক বাবদ সাড়ে তিন লাখ টাকা দাবি করেন রাব্বানী। এরপর থেকেই ফজিলাতুন নেছাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা শুরু করেন তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা।

মঙ্গলবার সকাল যৌতুকের টাকা আনতে অস্বীকৃতি জানালে লাঠি দিয়ে শরীরে বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়ি মারেন গোলাম রাব্বানী। এক পর্যায়ে ফজিলাতুন নেছা অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যদের যোগসাজশে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন রাব্বানী।

তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ফজিলাতুন নেছাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সেখান থেকে পরিবারের সদস্যরা রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে গিলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওযায় সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

ফজিলাতুন নেছার বাবা ফজলুর হোসেন বলেন, ‘যৌতুকের জন্য মেয়েকে চাপ দিত এবং প্রায়ই মারধর করত। এর আগে কয়েকবার তাদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারা সমস্যা সমাধান না করে শেষ পর্যন্ত আমার মেয়ের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গা পুড়ে গেছে। মেয়েটার অবস্থা সংকটাপন্ন।’

এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে তিনি আরো বলেন, ‘যাতে আর কোনো মেয়েকে যৌতুকের জন্য এমন নির্যাতনের শিকার হতে না হয়। এই ঘটনার সঙ্গে আমার মেয়ের শ্বশুড়বাড়ির সদস্যরাসহ আমার বোন হিরা ও তার মেয়ে হাসু জড়িত আছে।’

নওগাঁ সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আ. ওয়াদুদ বলেন, এ ঘটনায় কয়েকজনের নামে একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত গোলাম রাব্বানীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে আরো যারা জড়িত আছে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।