বরিশাল প্রতিনিধি:: নগরের রূপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে ১৭ রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাকা ধর্মঘটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা।বাস চালকদের সঙ্গে মাহিন্দ্রা (থ্রি-হুইলার) চালকদের মারামারির ঘটনায় দ্রুত বিচার দাবিতে শনিবার (৮ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকে এ ধর্মঘট ডাকা হয়।

এ টার্মিনাল থেকে খুলনা বিভাগ, ঝালকাঠি, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর জেলার ১৭ রুটে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। তারা বিকল্পযানে ঝুঁকি নিয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়ায় গন্তব্যে পৌঁছতে চেষ্টা করছেন।
দুপুরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বাস চালক ও মাহিন্দ্রা চালকদের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটে। সেখানে সালিস করতে গিয়ে আলফা-মাহিন্দ্রা সমিতির নেতাদের মারধরে ববির তিন শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও বাস মালিক-শ্রমিকদের মারামারি হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে এ ধর্মঘট ডাকে বাস শ্রমিকরা।

রূপাতলী বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলারের দাপটে বাস চালানো যায় না। এসব বাহনের কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। সড়কে বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি এবার বাস চালক, মালিক ও শ্রমিকসহ ববি শিক্ষার্থীদের মারধর করেছে মাহিন্দ্রা চালক মালিকরা। এ ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।বরিশাল সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, মহাসড়কে বাস মালিক সমিতির উদ্যোগে বাসের চেকিং করা হচ্ছিল। তখন আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর মাহিন্দ্রা সমিতির ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী হামলা চালায়। এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পারলেই ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাহিন্দ্রা মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি।

বরিশাল নগর পুলিশের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে দুপুরে মীমাংসা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাইনি, পেলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ বিষয়ে জানতে বরিশাল নগর পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।