আপডেট নিউজ ডেস্ক:: গিবত বা পরনিন্দা করা ইসলামে এক ভয়ংকর গুনাহ। কিন্তু অনেক সময় আমরা গিবত না করেও গিবতের সঙ্গী হয়ে যাই—তাও না বুঝেই। কারণ গিবত শোনাও যে একটি বড় পাপ, তা অনেকেই জানি না বা গুরুত্ব দিই না। অথচ ইসলাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছে, গিবতের মতো অনৈতিক কথাবার্তা থেকে যেমন বিরত থাকতে হবে, তেমনি তা শোনার ক্ষেত্রেও সজাগ থাকতে হবে।

কোরআনের নির্দেশনা আল্লাহ তাআলা বলেন—“আর যখন তুমি দেখো যে, তারা আমার আয়াত নিয়ে বিদ্রূপ করছে, তখন তুমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও, যতক্ষণ না তারা অন্য বিষয়ে আলোচনা করে। আর যদি শয়তান তোমাকে ভুলিয়ে দেয়, তবে স্মরণ হওয়ার পর জালিমদের সঙ্গে বসো না।”

(সুরা আনআম, আয়াত: ৬৮)একইভাবে, যারা অর্থহীন ও অনৈতিক কথাবার্তা থেকে নিজেকে বিরত রাখে, তাদের প্রশংসা করেছেন মহান আল্লাহ।“যখন তারা অনর্থক কথা শোনে, তখন তা থেকে বিমুখ হয়ে যায়।”

(সুরা কাসাস, আয়াত: ৫৫)গিবতের ভয়াবহতা ও নবীজির শিক্ষা গিবত মানে কারো অনুপস্থিতিতে এমন কিছু বলা, যা শুনলে সে কষ্ট পাবে—even যদি তা সত্য হয়। আমাদের প্রিয় নবী (সা.)-এর সামনে কেউ যখন কারো বিরুদ্ধে কথা বলত, তিনি সঙ্গে সঙ্গেই প্রসঙ্গ পাল্টে দিতেন এবং ঐ ব্যক্তির সম্মান রক্ষার চেষ্টা করতেন।একবার এক সাহাবি একজন সম্পর্কে বললেন, “সে তো মুনাফিক।” তখন নবীজি (সা.) বললেন,“সে কি ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে না?” “হ্যাঁ,” উত্তর এলো।

তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার ওপর জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।”(বুখারি, হাদিস: ৬৯৩৮)

পরনিন্দাকারীকে থামানো—একটি পুরস্কারপ্রাপ্ত কাজযদি কেউ গিবত করে, তাহলে শুধু চুপ না থেকে, তাকে থামানোর চেষ্টা করা এবং যার সম্পর্কে বলা হচ্ছে, তার সম্মান রক্ষা করা মুমিনের দায়িত্ব।

রাসুল (সা.) বলেছেন—“যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের মানসম্মান রক্ষা করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার মুখমণ্ডল জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন।”(তিরমিজি, হাদিস: ১৯৩১)আমাদের করণীয় গিবত করা থেকে নিজেকে বিরত রাখা কেউ গিবত করছে—তাহলে সেই পরিবেশ থেকে সরে যাওয়া

সম্ভব হলে তাকে সুন্দরভাবে বোঝানো গিবতের বিষয়ে ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি ছড়িয়ে দেওয়া শেষ কথা,গিবত শুধু মুখের গুনাহ নয়, এটি হৃদয়ের রোগ। এটি সমাজকে বিষিয়ে তোলে, সম্পর্ক ভাঙে, এবং পরকালে ভয়ংকর শাস্তির কারণ হয়। তাই আমাদের উচিত, নিজের জবানকে হেফাজত করা এবং গিবতের আসরে সঙ্গী না হওয়া