বরিশাল ব্যুরো:: বরিশালের মুলাদীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে সন্ত্রাসী আব্বাস হাওলাদার ও তার ভাই বশির হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।শুক্রবার সকালে মুলাদী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা টহল দল ও পুলিশের যৌথ অভিযানে কাজিরচর ইউনিয়নের চর কমিশনার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের বাড়ি থেকে ১৩টি ককটেল বোমা, একটি রামদা, দুটি চাইনিজ কুড়াল ও নগদ অর্থসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আব্বাস ও বশির ওই এলাকার আব্দুল রব হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, আব্বাস ও তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে কুখ্যাত অপরাধী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। বিগত সরকারের আমলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব হারুন বিশ্বাস ও কাজিরচর ইউপি চেয়ারম্যান মন্টু বিশ্বাসের সহযোগী হিসেবে ক্ষমতা ব্যবহার করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন তারা।
থানা সূত্রে জানা যায়, আব্বাস এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্র প্রদর্শন, ভূমি দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিল। গত ৫ আগস্টের পর থেকে আব্বাস ও তার সহযোগীরা আত্মগোপনে ছিল। আব্বাসের পরিবারকে এলাকায় ভূমিদস্যু ও মাফিয়া হিসেবে পরিচিত। তার নামে একটি হত্যা মামলা সহ আরও দুটি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, নগদ অর্থ ও ককটেল বোমা উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, শুক্রবার বিকেলে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় আব্বাসের ফাঁসির দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও মিষ্টি বিতরণ করেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের আশ্রয়ে থেকে আব্বাস সাধারণ মানুষের ওপর বছরের পর বছর অত্যাচার চালিয়েছে। তার ভয়ে বহু মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই সেনাবাহিনী ও পুলিশের এ পদক্ষেপকে তারা ন্যায় প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই কাজিরচর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আনন্দ প্রকাশে স্থানীয়রা মিষ্টি বিতরণ করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন সালাম হাওলাদার, কামাল হাওলাদার, সবুজ ব্যাপারী, সাহিন হাওলাদার, খালেক খান, লিটন মৃধা, কালাম হাওলাদার, ফাতেমা বেগম প্রমুখ।বিষয়টি নিশ্চিত করে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আব্বাসের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মামলা রয়েছে। নতুন করে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করা হচ্ছে।