গাজীপুর প্রতিনিধি:: গাজীপুরের শ্রীপুরে ১১ বছরেরশিশু ধর্ষণের অভিযোগে মামা ভাগ্নেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।শনিবার দুপুরে ওই বাড়িতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। বাড়ির মালিক ও স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে আটক করে। খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে পুলিশ ওই বাড়ি থেকে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার ভাটাজোড় গ্রামের মো. উজ্জলের ছেলে সো. নাজমুল হক (২৫) ও শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের সাইটালিয়া গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে শাকিল (১৮)। গ্রেপ্তারকৃতরা সম্পর্কে মামা ভাগ্নে। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা করেছেন।
ভিকটিমের মা জানান, তারা স্বামী-স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তিনি স্থানীয় ভিনটেক্স এবং তার স্বামী ডিজাইন নামক পৃথক কারখানায় চাকুরী করেন। মেয়ে একা বাসায় থাকে। অভিযুক্ত নাজমুল একই বাড়িতে ভাড়া থাকেন। নাজমুল বেশ কিছুদিন আগে ফাঁকা বাসায় ভিকটিমকে মুখ হাত বেঁধে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করে মোবাইলে অশ্লিল ছবি ধারণ করে। ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়। এরপর থেকে ভিকটিমের মা-বাবার অনুপস্থিতির সুযোগে ওই শিশুকে ধর্ষণ করতেন নাজমুল। সবশেষ শনিবার দুপুর ১টার দিকে নাজমুল ও শাকিল ফাঁকা বাসায় গিয়ে ওই শিশুকে ধর্ষণ করেন। বাড়ির মালিক বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ওই দুই ধর্ষককে ঘরে আটক করেন।
তিনি জানান, শনিবার দুপুরে মধ্যাহ্ন বিরতির সময় বাসায় খেতে এসে ঘটনা জানতে পারেন তিনি। স্থানীয় একটি মহল ঘটনা ধামা চাপার চেষ্টা করে। বিচার বঞ্চিত হবার আশঙ্কায় রাত ৮টার দিকে জাতীয় জরুরি পরিসেবার নম্বর ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান তিনি। রাত ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।ভিকটিমের বাবা কান্নাজড়িত কন্ঠে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার একমাত্র মেয়েকে পাষন্ডরা ধর্ষণ করেছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ নাছির আহমেদ জানান, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিদের আজ আদালতে সোপর্দ করা হবে।