পটুয়াখালী প্রতিনিধি:: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এক নিরীহ ফল ব্যবসায়ীকে বেধড়ক মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন সিকদারের বিরুদ্ধে।আহত ব্যবসায়ী নির্মল দাস (৫০) বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ—এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।ভুক্তভোগী নির্মল দাস জানান, উপজেলার সুবিদখালী বাজারে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সৎভাবে ফলের ব্যবসা করে আসছেন।

তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে সুজন সিকদার ও তার সহযোগীরা আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার কলেজপড়ুয়া ছেলে ঋত্বিক দাসকে মাদক মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি ছেলের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অপপ্রচার চালিয়ে আমার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করারও চেষ্টা করা হয়। অথচ আমার ছেলে বরিশাল থেকে বিএম কলেজে পড়াশোনা করে।নির্মল দাসের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে দোকানে যাওয়ার পথে সুজন সিকদার ও তার সহযোগীরা আমার পথরোধ করেন। সেখানে আবারও চাঁদার টাকা দাবি করা হলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। গলায় মাফলার লাগিয়ে রোডে টানা হয় বলে জানান তিনি।

স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় নির্মল দাসকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সোমবার দুপুরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল রেফার করা হয়েছে। পরে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে সুজন সিকদার দাবি করেন, নির্মল দাসের ছেলে ঋত্বিক দাসের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে এলাকায় এবং বিষয়টি থানা-পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকেও জানানো হয়েছে।মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, সচেতনামূলক কথা নিয়ে কেবল হাতাহাতি হয়েছে।উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাবুদ্দিন নান্নু বলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে দল তার দায় নেবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. আ. সালাম জানান, উভয়পক্ষ থেকেই লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে নির্মল দাসের ছেলের নামে থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই। তবে তার ছেলের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগের জনশ্রুতি আছে এলাকায়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।