নিজস্ব প্রতিবেদক:: আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বর্জন করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।মঙ্গলবার সকাল থেকে আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন।
তিনি বলেন, গত সপ্তাহে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর যেসব মামলায় হাইকোর্ট ও বরিশাল মেট্রোপলিটন দায়রা জজ আদালত আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করেছেন, সেসব মামলার আসামিদের চিফ ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামিন দিচ্ছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিরাও এসে জামিন নিয়ে যাচ্ছেন। এতে সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে বিচারকদের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এ পরিস্থিতিতে আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক নাজিমউদ্দিন আহমেদ পান্না, সাবেক সভাপতি মহসিন মন্টু, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর দায়রা জজ আদালতের এপিপি তারেক আল ইমরান প্রমুখ।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া আইনজীবীরা দাবি করেন, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসকে সোমবার অনৈতিক ও আইনবহির্ভূতভাবে জামিন দেওয়া হয়েছে, যাকে হাইকোর্ট পর্যন্ত জামিন দেয়নি। এর আগেও একাধিক আসামিকে একইভাবে জামিন দেওয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, সাধারণ আইনজীবীরা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না। তারা আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে দুই বিচারককে প্রত্যাহারের দাবি জানান।
আইনজীবী দুলাল মোল্লা বলেন, ‘অনেক রক্তের বিনিময়ে আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছি। বিচার বিভাগের মধ্যে কিছু কলঙ্কিত ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কাজ করছেন। হাইকোর্ট ও জজকোর্ট যাদের জামিন দেয়নি, তাদের টাকার বিনিময়ে জামিন দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি জানান।
চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, বিস্ফোরক ও অস্ত্র মামলার আসামিদের জামিন দেওয়ার এখতিয়ার জেলা জজ আদালতের। কিন্তু বিনা কারণে জামিন দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযুক্ত বিচারকদের অপসারণ না করা পর্যন্ত আদালত বর্জন চলবে বলেও জানান।বিক্ষোভে আইনজীবীরা আরও অভিযোগ করেন, বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহির উদ্দিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের আত্মীয়।তবে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের নাজির কামরুল ইসলাম বলেন, দুই আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। আইনজীবীদের বর্জনে আদালতের কাজে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।