আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন।শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে শুরু হওয়া এই অভিযানে ইরানের শীর্ষ স্থানীয় সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য জানিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত এই বিমান হামলার প্রথম ঢেউয়েই নাসিরজাদেহ এবং পাকপুর প্রাণ হারান।ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্যমতে, এই অভিযানটি ছিল ইরানের পক্ষ থেকে আসা ‘অস্তিত্ব রক্ষায় হুমকি’ মোকাবিলায় একটি আগাম পদক্ষেপ।
শনিবার সকালে তেহরান, ইসফাহান এবং কোমসহ ইরানের বড় শহরগুলোয় ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইসরায়েলি বিমান বাহিনী এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন লায়ন’স রোর’, অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর একে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে অভিহিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু সামরিক নেতাই নন, তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দপ্তরের কাছাকাছি এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে।
তবে খামেনি নিরাপদ স্থানে রয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় একটি স্কুলে আঘাত হানার ফলে অন্তত ৫১ জন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
এই হামলার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান ইতিমধ্যেই এই হামলার ‘দাঁতভাঙা’ জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করেছে।সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর আকাশসীমায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে এই অভিযানকে ‘সন্ত্রাসী শাসন’ উৎখাতের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে একে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।এই ঘটনার পর থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে এবং অনেক দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।