গৌরনদী প্রতিনিধি: বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ইফতার ও নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব বিরোধের জেরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও এলোপাতাড়ি মারধরে দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আহতদের স্বজনরা।

‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে বাসুদেবপাড়া গ্রামের মো. মতিউল বেপারীর সঙ্গে একই এলাকার বাসিন্দা মো. সোহাগ বেপারীর কথাকাটাকাটি হয়। ওই ঘটনার জের ধরে সোমবার (২ মার্চ) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে মতিউল বেপারী মসজিদ থেকে ইফতার ও নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে আঃ রব বেপারীর বাড়ির পশ্চিম পাশে পৌঁছালে সোহাগ বেপারীর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা তার (মতিউল) পথরোধ করে হামলা করে। অভিযোগে বলা হয়, সোহাগ বেপারীর হাতে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মতিউল বেপারীর উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। চাপাতির কোপে তিনি গুরুতর জখম হন। সোহাগের সহযোগীরা তাকে এলোপাতাড়িভাবে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত করে।

‎মতিউল বেপারীর আর্তচিৎকার শুনে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন তার চাচাতো ভাই আমিনুল বেপারী। তাকেও রেহাই দেয়নি সন্ত্রাসীরা। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আমিনুল বেপারীর বাম পায়ে গুরুতর আঘাত করা হয় এবং তাকেও নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা জনসম্মুখে হত্যার হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

‎বর্তমানে গুরুতর আহত মতিউল বেপারী ও আমিনুল বেপারী আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

‎এ ঘটনায় মতিউল বেপারীর ছোট ভাই জহিরুল বেপারী (২৫) বাদী হয়ে গৌরনদী মডেল থানায় বাসুদেবপাড়া গ্রামের মো. সোহাগ বেপারী (৩৫), আঃ রব বেপারী (৬০) ও মো. শহীদুল বেপারী (৩৫)-এর নাম উল্লেখ করে লিখত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

‎ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের কাউকে পাওয়া যায়নি, ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
‎গৌরনদী মডেল থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস হামলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।