বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি:: বরিশালের বাকেরগঞ্জে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের আহবায়ক নিমাই কীর্তনীয়ার বিরুদ্ধে উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের চরবাগদিয়া এলাকায় অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক অন্যের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বৃদ্ধ আব্দুল হাকিম হাওলাদার অভিযুক্ত ভূমিদস্যু নিমাই কীর্তনীয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালত একটি মামলা দায়ের করেছেন।
আদালতে মামলা করায় মামলার বাদী বৃদ্ধ আব্দুল হাকিম ও মামলায় উল্লেখিত সাক্ষীদের হুমকি দেয়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরবাগদিয়া গ্রামের মৃত্যু সোনামদ্দিন হাওলাদারের পুত্র আব্দুল হাকিম হাওলাদার (৭৮) বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক নিমাই কীর্তনীয়ার নেতৃত্বে ৮-১০ জনের ভূমিদস্যু সন্ত্রাসীরা তার পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে অবৈধভাবে দখল করে চাষাবাদের চেষ্টা করে।
অথচ বাগদিয়া মৌজায় অবস্থিত আরএস রেকর্ডভুক্ত ওই জমি তিনি ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন। সম্প্রতি নিমাই কীর্তনীয়ারা সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে ওই জমিতে তরমুজ চাষের জন্য অন্যের কাছে এক বছরের লিজ প্রদান করে সেই অর্থ আত্মসাৎ করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার দিন বিএনপি নেতা নিমাই কীর্তনীয়াসহ অভিযুক্তরা তার জমিতে প্রবেশ করে তরমুজ চাষের চেষ্টা করলে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঁধা দেন। অভিযুক্ত নিমাই হুমকি দিয়ে বলে তারা জমিতে তরমুজ চাষ করবেন। বাঁধা দিলে মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে কোন সমাধান না পেয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তারা বরিশাল বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২০১/২০২৬।
সরেজমিন তদন্তে নিমাই কীর্তনীয়ার বিভিন্ন কুকীত্তির চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়ে আসে। স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, অত্র মামলার বাদী ও বিভিন্ন লোকের রেকর্ডীয় সম্পত্তিসহ সরকারী খাস জমি নিমাই কীর্তনীয়া তরমুজ চাষীদের কাছে এক সনের জন্য লিজ দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেন। এজন্য তিনি বর্তমান সরকারের স্থানীয় এমপি মহোদয় জনাব আবুল হোসেন খান এর সাথে সখ্যতার বিষয়টি দাপটের সঙ্গে জাহির করেন।
বিগত বছরেও একইভাবে তরমুজ চাষীদের কাছে এক সনের লিজ দিয়ে জমির মালিকদের সামান্য কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে বাকী টাকা আত্মসাৎ করে এবং দলীয় নেতা কর্মীদের সান্ত্বনা স্বরুপ বাসায় বাসায় তরমুজ পাঠিয়ে দলের প্রভাব আয়াত্বে রাখে।
ভুক্তভোগীরা তাদের প্রাপ্য টাকা চাইলে তাদের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতিসহ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।
নিমাই কীর্তনীয়া আওয়ামী ও জামায়াতের চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং স্থানীয় কতিপয় উৎশৃঙ্খল লোকের সমন্বয়ে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব সহ পরিচালনা করে আসছেন বলে এলাকাবাসীরা জানান। তার এমন জঘন্য কর্মকাণ্ডে দলীয় তথা বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে মনে করেন স্থানীয় বিএনপির নিবেদিত নেতা কর্মীরা।
এ বিষয়ে স্থানীয় থানার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অত্র মামলা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।ভূক্তভোগী এবং স্বাক্ষীগণ চরম নিরাপত্তা হীনতাসহ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় দিনাতিপাত করছেন বলে এ প্রতিবেদকে জানান।