আমিনুর রহমান নয়ন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র/ইসরায়েল উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ তেল সংকট দেখা দিয়েছে। যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। ফলে দেশের বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে সবধরনের জ্বালানি তেলের।

জ্বালানি তেল সংকটের কারণে সারাদেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলাজুড়ে ব্যাহত হচ্ছে বোরোধানসহ সবধরনের ফসলের আবাদ। বিশেষ করে বোরো ধান চাষিরা পড়েছেন বড় বিপদে। সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কারণে ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

জীবননগর উপজেলার একাধিক কৃষকের সাথে কথা বললে তারা জানান, মাঠজুড়ে বোরো ধানের আবাদ। ধানের বাইল (শীষ) বের হওয়া শুরু করেছে, প্রায় প্রতিদিন সেচ দেওয়ার দরকার। কিন্তু সেচ বাদ যাচ্ছে। এখন সেচ বাদ গেলে ধানের ফলন ব্যাপক হারে কমে যাবে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। বাজারে বেড়ে যাবে ধান-চালের দাম।

এছাড়া কৃষকরা আরও জানান, সকালে ঢম/বোতল হাতে করে পাম্পে গেলে বলছে বিকালে আসেন। বিকালে গেলে বলছে রাতে আসেন। রাতে গেলে আবার পরের দিন সকালের কথা বলছে। পরের দিন সকালে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরেও অনেকে আবার খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন পাম্পের স্টাফ ও পাম্প এলাকার বাসিন্দারা। এভাবে তো চলতে পারে না। অথচ অবৈধ গাড়ির ক্ষেত্রে তেলের কোনো অভাব হচ্ছে না। আপাতত কয়েক দিন যদি অবৈধ গাড়িতে তেল সরবরাহ বাদ দিয়ে বোরো ধানে সেচ দেওয়ার জন্য শুধুমাত্র প্রকৃত কৃষকদের পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হয় তাহলে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।

যদিও উপজেলা প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে প্রৃকত চাষিরা যাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল পায় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে অবৈধভাবে তেল সংগ্রহকারী ও মজুদকারীদের বিরুদ্ধে।

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম রাসেল জানান, উপজেলার সকল ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত ডিজেলের সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া এজেন্ট পয়েন্টে প্রয়োজনীয় প্রমাণক প্রদর্শন সাপেক্ষে (উপজেলা কৃষি অফিসের সুপারিশসহ প্রত্যয়ন) কৃষকরা ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবেন। আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ম মেনে সীমিতভাবে জ্বালানি সংগ্রহ করুন এবং পরিমিত ব্যবহার করুন। বৈশ্বিক এই জ্বালানি সংকটে আপনাদের সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও আন্তরিক সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।

এদিকে ডিজেলের পাশাপাশি উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পেট্রোল-অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে। তারপরেও পাম্পে বাইকারদের দীর্ঘ লাইন কমছে না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশিরভাগ বাইকাররা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করছেন। যাদের অধিকাংশেরই বাইক সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট কোনো কাজ নেই। শতভাগ সততার সাথে ফুয়েল কার্ডের ব্যবহার বাস্তবায়ন করতে পারলেই এ অবস্থা থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাম্প কর্মচারী বলেন, আগে যে তেল বিক্রি করতে ৭ দিন সময় লাগত এখন সেই পরিমাণ তেল ৭ ঘণ্টায় বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। তারপরেও বাইকারদের ক্ষুধা মিটছে না।

অপরদিকে অবৈধভাবে পাম্প থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে সেই তেল খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রির কথা শোনা গেলেও এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে কেউ রাজি হয়নি।