পটুয়াখালী প্রতিনিধি:: পটুয়াখালীর হাসপাতালগুলোর নাজুক অবস্থা ও চিকিৎসাসেবার দুর্দশা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাপতি মো. নূরুল হক নূর। একই সঙ্গে জেলার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং অবকাঠামো সম্প্রসারণে নতুন পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।তিনি বলেন, সীমিত অবকাঠামো ও জনবল নিয়ে পটুয়াখালীর দুটি হাসপাতালই দুই জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন সেখানে ৮০০ থেকে ৯০০ রোগী ভর্তি থাকছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালের কক্ষের পাশাপাশি করিডোরও রোগীতে ভরে যাচ্ছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ অনেক রোগীকেই মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, হাসপাতালের কয়েকটি ভবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জেলার মানুষের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত অবকাঠামো সম্প্রসারণ সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি জানান, এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে ৫০০ শয্যার একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। ভবিষ্যতে হাসপাতাল এলাকার বাইরে আরও একটি আধুনিক ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।নূরুল হক নূর বলেন, বর্তমান জনবল ও পরিবেশে মানুষ যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হচ্ছেন, সেটি মহান আল্লাহর রহমত ছাড়া আর কিছু নয়। সরকার সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ই-স্বাস্থ্য কার্ড চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে। একই সঙ্গে জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে জনবল বৃদ্ধি করে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সেখানে জেলার সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন এবং সরকারি সেবা জনগণের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা দেন।