গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার একটি ভাড়া বাসায় গলা কেটে হত্যার শিকার হওয়া একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গোপালগঞ্জে দাফন করা হয়েছে।

রবিবার বেলা ১১টায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের পাইককান্দি পঞ্চপল্লী মাদরাসা মাঠে জানাজার নামাজ শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।একই স্থানে পাশাপাশি পাঁচটি কবর খোঁড়া হয়। সেখানে নিহত শারমিন আক্তার, তাঁর ভাই ও তিন মেয়েকে দাফন করা হয়।

রবিবার সকাল ৬টার দিকে দুটি লাশবাহী গাড়িতে করে নিহতদের মরদেহ গ্রামের বাড়ি উত্তর চরপাড়া গ্রামে পৌঁছায়। নিহতরা হলেন— শারমিন আক্তার (৩০), তাঁর ভাই রসুল মোল্লা (১৮) এবং শারমিনের তিন মেয়ে মিম আক্তার (১৪), উম্মে হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (১ বছর ৪ মাস)।সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সন্তান ও নাতনিদের হারিয়ে বারবার মূর্ছা যান শারমিনের মা ফেরেজা বেগম (৬০)। বুক চাপড়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে-মেয়ে, নাতনিদের মাইরা ফ্যালাইছে। আমার কলিজার টুকরাগো শেষ কইরা দিল। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচমু রে আল্লাহ…’।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাজান গতকাল নতুন জামা-প্যান্ট কিনছিল। সেই জামা পরে হাসতে হাসতে বোনের বাড়ি গাজীপুর গেছে। কে জানত, ওই যাওয়াই শেষ যাওয়া! আমার রসুল আমার ছোট ছেলে, আমার বুকের ধন। তোরা আমার রসুলরে আইনা দে…’ এ কথা বলেই আবারও জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি।

উল্লেখ্য, শনিবার ভোরে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে একটি ঘরে একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।নিহত শারমিনের বাবা শাহাদত মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলে, মেয়ে ও নাতনিদের ফোরকান হত্যা করেছে। ফোরকানসহ যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানাই।’