পিরোজপুর প্রতিনিধি:: পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় চলমান এসএসসি পরীক্ষায় উত্তরপত্র দেখতে না দেওয়ায় এক পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ঘুষি মেরে অন্য এক পরীক্ষার্থীকে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।রোববার (১০ মে) দুপুর ১টার দিকে ভাণ্ডারিয়া বন্দর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৩ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।আহত মাহফুজ সাদি উত্তর পূর্ব ভাণ্ডারিয়া গ্রামের মো. সফিকুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে সে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।অভিযুক্ত মো. সাকিব (১৭) পূর্ব ভাণ্ডারিয়া গ্রামের মো. মিজানুর রহমানের ছেলে। আহত ও অভিযুক্ত দুজনেই ভাণ্ডারিয়া বিহারী লাল মিত্র পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পদার্থ বিজ্ঞান (কোড নং-১৩৬) পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ভাণ্ডারিয়া বন্দর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৩ নম্বর কক্ষে মাহফুজ এবং সাকিব উওভয়ই পরীক্ষা দিচ্ছিল। এ সময় তার সহপাঠী সাকিব উত্তরপত্র দেখানোর জন্য মাহফুজকে বার বার  চাপ দেয়।
মাহফুজ উত্তরপত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানালে সাকিব ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরীক্ষা শেষে দুপুর ১টার দিকে কেন্দ্রের ভেতরেই মাহফুজের ওপর চড়াও হয় সাকিব। একপর্যায়ে সাকিব মাহফুজের ডান চোখে ঘুষি মারে। এ সময় মাহফুজের চিৎকারে কক্ষের পরিদর্শক ও অন্যান্য শিক্ষকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জান্নাতুল মাওয়া জানান, মাহফুজের ডান চোখে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। বর্তমানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে চোখের ভেতরে কোনো ইন্টারনাল ফ্র্যাকচার আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।আহত মাহফুজের মা আফরিন আক্তার বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন সময় সাকিব আমার ছেলেকে বারবার উত্তরপত্র দেখাতে বলে। আমার ছেলে উত্তরপত্র না দেখালে পরীক্ষা শেষে হলের ভেতর বসেই তাকে চোখে ঘুষি মারে। সামনে আমার ছেলের রসায়ন পরীক্ষা, কিন্তু আঘাতের ব্যথায় ছেলে এখন মাথা তুলতেই পারছে না। আমি এই হামলার বিচার চাই।

এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ আজমল হোসেন বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন শেষ সময়ে যখন সবাই খাতা জমা দিচ্ছে। ঠিক সেই সময়ে সাকিব আঘাত করে। এ সময় মাহফুজ চোখে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।