নিজস্ব প্রতিবেদক:: শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে চলমান আন্দোলন ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার মধ্যেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার ড. মামুন অর রশিদ-কে নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।
এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো আন্দোলনের মুখে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তনের ঘটনা ঘটল। এর আগে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে একাধিক উপাচার্যকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন ও পদোন্নতির দাবিতে গত সোমবার থেকে প্রশাসনিক দপ্তর ও শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ করে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন শিক্ষকরা। আন্দোলনের চতুর্থ দিনে বৃহস্পতিবার সকালে সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম প্রশাসনিক দপ্তরের তালা খুলে দেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই আসে নতুন নিয়োগের প্রজ্ঞাপন।
মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নতুন উপাচার্যের মেয়াদ দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত বহাল থাকবে। তিনি বর্তমান পদমর্যাদা অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা পাবেন।প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি ও আচার্য যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
এর আগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বদরুজ্জামান ভূইয়া, ড. শুচিতা শরমিন এবং পরে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম-কে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
নতুন উপাচার্য ড. মামুন অর রশিদ বর্তমানে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর ওশনোগ্রাফি অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।এদিকে নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর শিক্ষকদের আন্দোলন স্থগিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ধীমান কুমার রায় বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল উপাচার্যকে অপসারণ করা। দাবি পূরণ হয়েছে। এখন আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’