আমিনুর রহমান নয়ন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে দেশে সাম্প্রতিককালে মাদকের বিস্তার ভয়াবহভাবে বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গাতেও। বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন করে যুবসমাজ আজ ধ্বংসের পথে। কিন্তু কোনোভাবেই এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাচ্ছে না, বরং দিন দিন তা বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে। কেন দেশ থেকে মাদক নির্মূল হচ্ছে না এমন প্রশ্নের সদুত্তর কারও কাছ থেকেই পাওয়া যাচ্ছে না।

জীবননগর উপজেলার গ্রামগুলোতে সকল প্রকার মাদক বিশেষ করে ইয়াবা এমনভাবে বিস্তার লাভ করেছে যে রীতিমতো এক গ্রামের সাথে অপর গ্রামের প্রতিযোগিতা চলছে যে কোন গ্রামের যুবসমাজ মাদক সেবনে এগিয়ে রয়েছে। প্রত্যকে ব্যক্তিই মনে করছেন মাদক সেবনে তার গ্রামই এখন উপজেলার এক নম্বরে।

তবে মাদক নির্মূলে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। মাঝে মাঝে মাদকবিরোধী যে সমাবেশ ও র‍্যালি করা হচ্ছে তা কোনো কাজেই আসছে না। কারণ এ ধরনের সমাবেশের ধারাবাহিকতা থাকছে না। অনেক ক্ষেত্রে আবার মাদকবিরোধী কমিটির নামে মাদক ব্যবসায়ীদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হচ্ছে। যা আইনের সাথে সাংঘর্ষিক।

কী করলে দেশ থেকে মাদক চিরতরে নির্মূল হবে এমন প্রশ্নের জবাবে একাধিক গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উত্তরে বলেন, দেশ থেকে চিরতরে মাদক নিমূল করা হয়তো কোনো কালেই সম্ভব হবে না। তবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। দেশের চলমান আইনও হচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, নির্মূল নয়। কার এলাকায় কে বা কারা মাদক ব্যাবসার সাথে জড়িত তা সংশ্লিষ্ট এলাকার সকলেই জানে। তাদেরকে এ ব্যাবসা হতে সরিয়ে আনতে পারলেই মাদক থেকে নিজ এলাকার যুব সমাজকে রক্ষা করা যেতে পারে। তবে তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নিতে কাউকেই দেখা যাচ্ছ না। মুখে মুখে সবাই মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার। এক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম।

উল্লেখ্য, সকল প্রকার মাদকদ্রব্যের বাবা ইয়াবা যেভাবে প্রত্যেক গ্রামের যুব সমাজের হাতে পৌঁছে গিয়েছে এখনই তা রুখে দিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিজিবি ও পুলিশকে আরও কঠোর হতে হবে। সেই সাথে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা আটকের পর যেন সহজে জামিন না পায় সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। তবে সবার আগে বন্ধ করতে মাদকের অবৈধ আমদানি।