জিয়াউল হক, বাকেরগঞ্জ:: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙামাটি নদীর ওপর ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে গোমা সেতু নির্মাণ করে সড়ক ও জনপথ। গত (১৭ মার্চ) সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। সেতুটি উদ্বোধনের পর থেকেই নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। উদ্বোধনের পাঁচ মাস পার হলেও সেতুতে এখন পর্যন্ত সড়ক বাতি (স্ট্রিট লাইট) স্থাপন করা হয়নি। এরই মধ্যে দুর্বৃত্তরা গতকাল ১০ জুলাই (শুক্রবার) রাতের আঁধারে সেতুর বিভিন্ন অংশের নাট-বল্টু খুলে নিয়ে যাওয়ায় জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গোমা সেতুটি নির্মাণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেতুটিতে কোন সড়ক বাতি স্থাপন করেনি। রাতের বেলায় সেতুতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র সেতুর বিভিন্ন স্থাপনার নাট-বল্টু খুলে নিয়ে যাচ্ছে। রাত হলে সেতুতে ভিড় জমায় মাদক সেবীরা। প্রায়ই ঘটছে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা। অন্ধকারে সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনা লেগেই আছে। এমন পরিস্থিতিতে সেতুর নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, এত বড় ব্যয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং দ্রুত স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা জরুরি। পাশাপাশি যারা সরকারি সম্পদের ক্ষতি করছে তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
সচেতন মহলের মতে, সরকারি অবকাঠামো রক্ষায় নিয়মিত তদারকি না থাকলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার দীর্ঘ গোমা সেতুটি পিসি গার্ডার ও স্টিল ট্রাস কাঠামোতে নির্মিত হয়েছে। সেতুর সঙ্গে প্রায় ১ দশমিক ৯০ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৬ দশমিক ৫১৮ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এছাড়া চারটি ৮ মিটার ও একটি ৬ মিটার আরসিসি বক্স-কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর দুই তীরে প্রায় ১১ হাজার ৮৬০ বর্গমিটার এলাকায় নদী শাসনকাজ এবং ৩১ হাজার ৮৮৬ বর্গমিটার এলাকায় কংক্রিট স্লোপ প্রটেকশন করা হয়েছে, যাতে নদীভাঙন থেকে সেতু ও সড়ক সুরক্ষিত থাকে।
২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর একনেক সভায় গোমা সেতু প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৭ কোটি ৬২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। পরে কারিগরি পরিবর্তন ও নৌযান চলাচলের সুবিধার্থে সেতুর উচ্চতা বাড়ানোয় প্রকল্প ব্যয় সংশোধন করে ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়। সেতুটির মাঝ খানের অংশের দুই পাশে বর্তমানে নিরাপত্তার রেলিং এর কাজ চলমান রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মাসুম ফকির জানান, নাদিম, রহিদ ও নেয়ামুল নামের তিন যুবক গতকাল রাতে সেতুর মাঝখানের অংশের নিরাপত্তা রেলিং এর ২৪ টি নাট বল্টু চুরি করে নিয়ে গেছে। তবে চোরেরা এলাকা থেকে পালিয়েছে। নাট বল্টু গুলো স্থানীয়দের জিম্মায় রয়েছে।

সওজ বরিশাল জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম জানান, সেতুটির প্রকল্পের সব কাজ শেষ হয়েছে এবং উদ্বোধন হয়েছে। বর্তমানে নিরাপত্তার রেলিং এর কাজ চলমান রয়েছে সেখান থেকে কিছু নাট বল্টু চুরি হয়েছে। ঘটনাস্থলে আমাদের প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। সেতুটির মূল প্রকল্পে সড়ক বাতির বরাদ্দ ছিল না। সড়ক বাতি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলেই দ্রুত সড়ক বাতি স্থাপন করা হবে।