বরগুনা প্রতিনিধি:: বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের লেমুয়া বাজারে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি দোকান ও ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।এতে ব্যবসায়ীদের কয়েক বছরের সঞ্চিত পুঁজি, মালামাল, নগদ অর্থ, আসবাবপত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক নথিপত্র আগুনে ভস্মীভূত হওয়ায় অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, এ ঘটনায় প্রায় ৭ থেকে ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।সোমবার (১৩ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে রবিন নামে এক ব্যবসায়ীর মুদি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয়রা জানান। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বাজারের অধিকাংশ দোকান টিন ও দাহ্য সামগ্রী দিয়ে নির্মিত হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ রূপধারণ করে।

খবর পেয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও আগুনের তীব্রতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে পাথরঘাটা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এবং পার্শ্ববর্তী মঠবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের আরেকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বাজারের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি দোকান ও ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, দোকানে থাকা মালামাল, নগদ অর্থ, আসবাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কাগজপত্র আগুনে পুড়ে যাওয়ায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ছিল এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

রায়হানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, উপজেলা সদর থেকে রায়হানপুর ও কাকচিড়া ইউনিয়নের দূরত্ব বেশি হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ঘটনাস্থলে পৌঁছতে সময় লাগে। তাই ভবিষ্যতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে রায়হানপুর অথবা কাকচিড়া ইউনিয়নে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানান তিনি।পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক বলেন, একটি আগুনেই ৪০-৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগবে। তাই সরকারের কাছে তাদের জন্য বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানাচ্ছি, যাতে তারা আবার ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এবং চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।

এদিকে বরগুনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাছলিমা আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।ফায়ার সার্ভিস ইতোমধ্যে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।