বাগেরহাট প্রতিনিধি:: বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়া ২২ কেজি ওজনের বিরল প্রজাতির ‘ধাতিনা ভোল’ মাছ বাগেরহাটে ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি মাছের দাম পড়েছে প্রায় ১৩ হাজার ৮৮৭ টাকা।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে বাগেরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের কেবি বাজারে মিরাজ হাওলাদারের আড়তে মাছটি কিনে নেন মৎস্য ব্যবসায়ী হারুন মীর। এর আগে গত ১১ আগস্ট বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বগা গ্রামের জেলে ইলিয়াছ হোসেনের ‘এফবি মায়ের দোয়া’ ফিশিং ট্রলারের জালে মাছটি ধরা পড়ে।বৃহস্পতিবার সকালে বিরল এই মাছটি দেখতে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের কেবি বাজারে ভিড় করেন স্থানীয় মানুষ। মাছটির আকার ও দাম নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা যায়।

‘এফবি মায়ের দোয়া’ ফিশিং ট্রলারের মালিক ও মাঝি ইলিয়াছ হোসেন বলেন, সাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ইলিশ তেমন ধরা পড়ছিল না। মঙ্গলবার ভোরে জাল টানার সময় ২২ কেজি ওজনের মাছটি পাওয়া যায়। পরে বৃহস্পতিবার সকালে সেটি ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন তিনি।

মাছটির ক্রেতা মৎস্য ব্যবসায়ী হারুন মীর বলেন, ধাতিনা ভোল মাছের প্রতি মণের দাম ৬ লাখ টাকার বেশি। সেই হিসাবে ২২ কেজি মাছটি ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় কিনেছেন তিনি। মাছটি বরফ দিয়ে চট্টগ্রামের বড় মোকামে পাঠানো হবে। সেখানে বিক্রি করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

উপকূলীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন, ধাতিনা ভোল মাছের পটকার আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে চীন, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এর পটকা উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। পটকাটি ওষুধ, বিশেষ ধরনের অস্ত্রোপচারের সুতা ও প্রসাধনী তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর বাগেরহাটের জেলের জালে এত বড় একটি ধাতিনা ভোল ধরা পড়েছে। এমন মাছ জেলে ও ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে।স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, এত বড় ধাতিনা ভোল মাছ তিনি আগে কখনো সরাসরি দেখেননি। খবর পেয়ে মাছটি দেখতে এসেছেন। একইভাবে দর্শনার্থী সাইফুল ইসলামও মাছটির আকার ও দাম দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন।