জামালপুর প্রতিনিধি:: বরগুনার আমতলী উপজেলার কালিপুরা গ্রামে স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে একটি সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের দুর্ভোগে থাকা এলাকাবাসীর সুবিধার কথা বিবেচনা করে বসুন্ধরা শুভসংঘ আমতলী উপজেলা শাখার উদ্যোগে সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, খাল-জলাশয়ের ওপর নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তাদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানির পরিমাণ বেড়ে গেলে এ দুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করত। শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হতো। অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের তৈরি অস্থায়ী ব্যবস্থা ব্যবহার করে খাল পারাপার করতে হতো।

এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বসুন্ধরা শুভসংঘ আমতলী উপজেলা শাখা সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। সংগঠনের সদস্যদের মানবিক ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় সাঁকো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

সাঁকোটি নির্মাণের ফলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের সমস্যা অনেকটাই লাঘব হয়েছে। এখন স্থানীয় বাসিন্দারা সহজে ও তুলনামূলক নিরাপদে খাল পার হয়ে নিজেদের প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত করতে পারছেন।

সাঁকো নির্মাণ শেষে উদ্বোধনী কার্যক্রমে অতিথি ছিলেন কুকুয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার, তালুকদার মো. মাসুদ রানা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আমতলী উপজেলা বসুন্ধরা শুসংঘের উপদেষ্টা মো. আল আমিন বাবু, বসুন্ধরা শুভসংঘ আমতলী উপজেলা শাখার সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক গাজী নাসির, সদস্য নাজমুল আহসান, নয়ন দাস, নাইমুর রহমান নাইম সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, মানুষের কল্যাণে ছোট ছোট উদ্যোগও সমাজে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। একটি সাঁকো নির্মাণ দেখতে ছোট একটি উদ্যোগ মনে হলেও এর সঙ্গে এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিকাজ ও প্রয়োজনীয় যাতায়াতের বিষয় জড়িত। তাই মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তারা আরও বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ শুধু সামাজিক সচেতনতা তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের প্রয়োজনের সময় তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং বাস্তবভিত্তিক জনকল্যাণমূলক কাজ করাও সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য। এলাকার মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার মাধ্যমে একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দারা বসুন্ধরা শুভসংঘের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা সমাধানে সংগঠনটির পক্ষ থেকে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সাঁকোটি নির্মাণের ফলে এলাকার মানুষের সময় ও শ্রম দুটোই সাশ্রয় হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও বসুন্ধরা শুভসংঘের মতো সামাজিক সংগঠনগুলো এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।