পটুয়াখালী প্রতিনিধি:: পটুয়াখালীতে এক ব্যবসায়ী ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন গাজীকে (৪৫) দলীয় সব সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার রাতে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আপনার (ফরিদ উদ্দীন গাজী) বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শ্রী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে প্রাণনাশের হুমকি, বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জীবিত পুড়িয়ে মারার হুমকি সংক্রান্ত একটি কল রেকর্ড বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। যা সংগঠনের শৃঙ্খলা ও আদর্শের পরিপন্থি বলে প্রতীয়মান হয়। এ ঘটনায় দলের
শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

তাই দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও সংগঠনের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আপনাকে বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য পদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।অভিযুক্ত ফরিদ গাজী বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।

এর আগে, দাদু “আমার একটা শখ জাগছে, আমি একটা জ্যাতা নমো পুড়মু। আপনারে বাইছা নিছি, এ ক্ষেত্রে আপনার মন্তব্য কী? আপনার কোনো প্রতিক্রিয়া আছে?” এমনই হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা বিএনপি নেতা মো. ফরিদ গাজী (৪৫)। ফরিদ গাজী একই এলাকার বাসিন্দা গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল (৫২) নামের এক ব্যবসায়ীকে।

হুমকি দেওয়ার সেই ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের একটি কথোপকথনের একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল ওই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

গোবিন্দ মন্ডল বাউফল সদর ইউনিয়নে হলেও ঢাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসা করেন। এছাড়াও এলাকায় গবাধিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার ও মাছের ঘেরের ব্যবসা রয়েছে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়েছেন গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের কর্মী সমর্থকরা।

ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল অভিযোগে বলেন, তিনি ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এবং এর আগেও মোবাইলে হুমকি দিয়েছিলেন ফরিদ গাজী। তখন ৫০ লাখ টাকা চাঁদাও দাবিও করেছিলেন। তখনকার কথা তিনি রেকর্ড করতে পারেননি। তিনি বলেন, ফরিদ একজন সন্ত্রাসী। এ জন্য তিনি শঙ্কিত। এ ঘটনায় তিনি থানায় জিডি করেছেন।বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের করা সাধারণ ডায়েরির অভিযোগের বিষয়ে আদালতের আদেশ পাওয়ার পর তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ওই ব্যবসায়ী জিডি করার পরই ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি ফরিদ গাজী চেক প্রতারণার মামলার আসামি। তাই ফরিদ গাজীকে চেক প্রতারণার একটি মামলায় গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।