বরিশাল প্রতিনিধি:: বরিশালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের এক কর্মকর্তাসহ চারজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম।এর আগে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার দক্ষিণ কড়াপুর এলাকার মিরাজুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা।
তিনি বলেন, আটকরা হলেন-বরিশাল মেট্রোপলিটনের এয়ারপোর্ট থানার এএসআই ও খুলনা সদরের শেরেবাংলা রোড এলাকার মো. সাখাওয়াত হোসেন সিকদারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৮), বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটের ভট্টখামার নোয়াপাড়া এলাকার আবু সাঈদ মোল্লার মেয়ে নাহিদ হাসান (২৬), বরিশাল সদরের দক্ষিণ কড়াপুর এলাকার মৃত এম এ বারির ছেলে মো. মিরাজুল ইসলাম (৩৪) ও বরিশাল নগরের কাউনিয়া থানাধীন পলাশপুর এলাকার হেমায়েত গাজীর ছেলে ফাতেমা আক্তার নুরজাত (৩০)।মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, দক্ষিণ কড়াপুর এলাকায় মিরাজ হাওলাদারের বাড়িতে মাদক কেনাবেচা, সেবন ও আড্ডা হয়-এমন তথ্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় বাড়িটি ঘেরাও করা হয়।
পরে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা বাড়িটিতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় তারা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন।ভেতরে প্রবেশের পর চারজনকে আটক করা হয় এবং মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
এ সময় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দেলোয়ার হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। পরে বিষয়টি এয়ারপোর্ট থানা পুলিশকে জানানো হলে তারা দেলোয়ার হোসেনের পরিচয় নিশ্চিত করে তাকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।এদিকে, পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেন ছাড়া বাকি তিনজনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তারা মাদক সেবনের বিষয়টি স্বীকার করায় তাদের ডোপ টেস্ট করা হয়েছে। ডোপ টেস্টের রিপোর্ট পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ বিষয়ে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এখন নির্দেশনা অনুযায়ী আইন ও চাকরিবিধিতে যে ধরনের নির্দেশনা রয়েছে, সেই অনুযায়ী এএসআই দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।