গাজীপুর প্রতিনিধি:: গাজীপুরের টঙ্গীতে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মো. মোসলেহ উদ্দিনেরজামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার দুপুরে গাজীপুর অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ওমর হায়দার এই আদেশ দেন।
গ্রেপ্তার মোসলেহ উদ্দিন (৩০) কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কর্তিবাড়ী (মাস্টারপাড়া) এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ‘ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র উপাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা জানায়। পরে বুধবার দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় গত বৃহস্পতিবার ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। গতকাল শনিবার দুপুরে পুলিশ তদন্ত করতে মাদ্রাসায় যায় এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে শিশু নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে শিক্ষকের ওপর হামলা, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে।’