আমিনুর রহমান নয়ন: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশন পুনরায় পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে দুজন স্টেশনমাস্টারসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগ, আধুনিক মানের প্ল্যাটফর্ম ও বিশ্রামাগার নির্মাণসহ স্টেশনের অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ঢাকা-খুলনা ও খুলনা-রাজশাহীগামী আন্তঃনগর ট্রেনের আপ-ডাউন যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করার দাবিতে রেলপথ অবরোধ করা হয়েছে।

বুধবার (৪ঠা নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে রেলস্টেশন চত্বরে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে স্থানীয় প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। এ সময় খুলনা থেকে ছেড়ে চিলাহাটিগামী ৭২৭ আপ রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনে থামিয়ে রাখা হয়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন ট্রেনের যাত্রীরা। বিপর্যয় ঘটেছে ট্রেনের সিডিউলে।

অবরোধকারীরা জানান, আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশন চুয়াডাঙ্গা জেলার অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্টেশন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও পর্যাপ্ত ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্টেশনটি আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ইউনিয়ন এবং চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও দূরপাল্লায় মালামাল পরিবহনে এ স্টেশন ব্যবহার করেন।

তবে বর্তমানে স্টেশনটিতে যে ট্রেনটি থামে, সেটিও ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ায়। ফলে নিচু স্থান থেকে উঁচুতে উঠে ট্রেনে ওঠানামা করতে গিয়ে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি, জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ। পরে ইউএনওর আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে অবরোধে আটকে থাকা ট্রেন রুপসা এক্সপ্রেস গন্তব্যের উদ্দেশে স্টেশন ছেড়ে যায়।