বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি:: বরিশালের বাকেরগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাতিজা ও তার সহযোগীদের হামলায় গুরুতর আহত চাচা মো. আনোয়ার হাওলাদার (৫২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনার নয় দিন পর শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।নিহত আনোয়ার হাওলাদার বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভবানীপুর হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা। তিনি মৃত আকব্বর হাওলাদারের ছেলে।স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) এশার নামাজের পর আনোয়ার হাওলাদার বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর বড় ভাই দেলোয়ার হাওলাদারের ছেলে সোহেল হাওলাদার ও তার সহযোগীরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়। হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন সোহেল হাওলাদার, সমির হাং, নাছিম হাং, নয়ন খা ও সাকিব জোমাদ্দারসহ আরও কয়েকজন।

নিহতের ছোট ছেলে আবু ইউসুফ জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির সামনে বসে ছিলেন। এ সময় তাঁর বড় ভাই বিদেশ থেকে ফোন করায় তিনি ঘরে চলে যান। কিছুক্ষণ পর চিৎকার শুনে বাইরে এসে দেখেন, তাঁর বাবা মাটিতে পড়ে আছেন। বাবাকে কোলে তুলে ধরার সময় তাঁর মাথার রক্ত হাতে লেগে যায়। এমনকি মাথার ক্ষতস্থানে তাঁর হাতের একটি আঙুল ঢুকে গিয়েছিল।
পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ নভেম্বর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে আনোয়ার হাওলাদার হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের নাম বলে গেছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

এদিকে চাচাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ভাতিজা ও তাঁর সহযোগীদের জড়িত থাকার বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আদিল হোসেন জানান, এ ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন। মামলা প্রক্রিয়াধীন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।