ছবি: আপডেট নিউজ বিডি টোয়েন্টিফোর 

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যাকারী সৌদি প্রবাসী যুবক রিপনের লাশ অবশেষে দেশে এসেছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে ছেড়ে আসা শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের একটি ট্রানজিট (রিয়াদ-কলম্বো-ঢাকা) কার্গো ফ্লাইটে নিহতের মরদেহ গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। নিহতের লাশ গ্রহণ করেন তাঁর বাবা আশাদুল। রাতেই লাশ নিয়ে আসা হয় মরহুমের গ্রামের বাড়ি সেনেরহুদায়। শুক্রবার (৫ই এপ্রিল ২০২৪) সকাল ৮টার সময় সেনেরহুদা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয় জান্নাতুল খাদরা কবরস্থানে।

এর আগে গত ২৮শে ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে সৌদি আরবে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়ন সেনেরহুদা গ্রামের আশাদুল হকের ছেলে রিপন হোসেন (২৬)। তিনি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আল কাসিম ব্রদা এলাকায় একটি কৃষি খামারের কাজ করতেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে রিপন ছিল বড়। তাঁর ছোট ভাই মালয়েশিয়া প্রবাসী।

তবে রিপনের ভিসা-পাসপোর্টসহ অন্যান্য কাগজপত্রের মেয়াদ না থাকায় লাশ দেশে পৌঁছানোর আশা একেবারে ক্ষীণ হয়ে যায়। এরইমধ্যে সৌদি আরবে রিপনের কফিল/মালিক বা নিয়োগকর্তা কোনো প্রকার খরচ বহন করতে অস্বীকৃতি জানান। এসময় এগিয়ে আসেন সৌদি আরবে থাকা উথলী বাজার এলাকার রায়হান। তিনি নিহত রিপনের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সার্বিক চেষ্টা চালিয়ে যান। গত ২৯শে ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদের প্রথম সচিব শ্রম (স্থানীয়) স্বাক্ষরিত {স্বারক নং- ১৯.০১.৯৬৬১.৭০০.৩৩.০০১.১৭ (অংশ-০১)-৪৬২} এক চিঠিতে স্থানীয়ভাবে দাফনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জারি করা হয়।

পরবর্তীতে রায়হানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং পরিচিত কিছু ব্যক্তির সহযোগিতায় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা খরচ করে তার মরদেহ পরিবারের কাছে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে। এক্ষেত্রে রিপনের পরিবার, মেম্বার-চেয়ারম্যান, জেলা জনশক্তি অফিস ন্যূনতম সহযোগিতা করেনি বলে জানিয়েছেন রায়হান। তারপরেও অনেকেই বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের মিথ্যা অপবাদ রটিয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত রটাচ্ছে।

আরও পড়ুন: সৌদিতে বাংলাদেশী যুবকের আত্মহত্যায় বাড়িতে শোকের মাতম, লাশ ফেরতের আকুতি updatenewsbd24.com/?p=51131

আরটিভির সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিনিধি এসএম শাফায়েত বলেন, ‘সৌদিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে ও সেখানকার গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য মতে- মরহুম প্রবাসী রিপনের মরদেহ দেশে প্রেরণে কোন সরকারি অর্থায়ন/অনুদান/খরচ পাওয়া যায়নি। যেহেতু সে দেশটির ভিসা নীতি লঙ্ঘন করে অবৈধ হয়ে চুক্তিবিহীন সেচ্ছায় কাজ করে বেড়াতো, তাই তার কফিল/মালিক বা নিয়োগকর্তা কোন প্রকার খরচ বহনে বাধ্য নন। এক কথায় তার লিগ্যাল ডকুমেন্টস না থাকায় তার কোন ইন্সুরেন্স (খরচ বহনকারী) কোম্পানি নাই। পরবর্তীতে সৌদি প্রবাসী রায়হানের সার্বিক তত্বাবধানে লাশটি দেশে পাঠানো হয়েছে।’

সৌদি প্রবাসী উথলী গ্রামের ফার্মগেট পাড়ার আমিন জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘শুধু সৌদি আরব নয়, কাগজপত্র ঠিক না থাকলে বাইরের যেকোনো দেশ থেকে লাশ নিয়ে আসা খুবই কঠিন কাজ। এ কাজ যারা করেছে শুধুমাত্র তারাই জানে বিষয়টি কতটা জটিল। আর যদি সৌদির কফিল কোনো দায়দায়িত্ব গ্রহন না করে তাহলে লাশ সৌদিতে দাফনের অনমুতি হয়ে যায়। যার মেয়াদ থাকে সর্বোচ্চ তিন মাস। অর্থাৎ এ সময়ের মধ্যেই লাশ বুঝে নিতে হয়। সেক্ষেত্রে লাশ দেশে আনতে হলে নিয়ম কানুন মেনে এবং টাকা খরচ করেই তারপর আনতে হয়। তবে রিপনের লাশ দেশে পাঠাতে যারা সার্বিক সহযোগিতা করেছে তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

আমিনুর রহমান নয়ন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।