আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬
আব্দুল কাদের:: বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসায় ত্রিশাল-এ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬। দিবসটির প্রথম প্রহরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
সরকারি নজরুল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে একুশের প্রভাতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনসাধারণ সারিবদ্ধভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুরো পরিবেশ ছিল শোকাবহ, শ্রদ্ধাময় ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ।
শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৫২, ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) সংসদীয় আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ, বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মহান শহিদ দিবস উপলক্ষে উপজেলার সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
শহরের প্রধান সড়কসমূহ ব্যানার, ফেস্টুন, আল্পনা ও বাংলা বর্ণমালার নান্দনিক সাজে সজ্জিত করা হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কালো ব্যাজ তৈরি ও বিতরণ করা হয়। একুশের চেতনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো ত্রিশাল।
দিবসটি উপলক্ষে রাশেদুল ইসলাম কনফারেন্স হল রুমে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও কবিতা পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। সভাপতিত্ব করেন ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, অমর একুশে আমাদের অহংকার। ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তাঁদের ত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে দেশ ও জাতির উন্নয়নে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।
উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কবিতা পাঠ, রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণের অংশগ্রহণে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, যা ছিল দিবসটির অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়া ভাষা শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় উপজেলার মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা ত্রিশালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে কর্মসূচিগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ভবনসমূহের কর্তৃপক্ষ এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার ও ইমামগণ নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন।
সব মিলিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ত্রিশালে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উদযাপন সম্পন্ন হয়। একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন প্রজন্ম মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা ও দেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

