বেতাগীতে আওয়ামী লীগ নেতার মাঠ দখল, ঈদের জামাত অনিশ্চিত

আপডেট: May 1, 2022

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরগুনা প্রতিনিধি:: বরগুনার বেতাগীতে নির্মাণসামগ্রী রেখে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা উপজেলা কেন্দ্রিয় ঈদগাহ মাঠ দখল করেছেন। এরফলে মাঠটিতে এবার ইদুল ফিতরের জামাত আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।তবে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই নির্মাণ সামগ্রী অন্যত্র সরানো হবে।

জানা গেছে, গত একমাস যাবত ভবন নির্মাণের জন্য বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রফেসর মো.হুমায়ন কবির ব্যাক্তিগত কাজে ব্যবহৃত নির্মানসামগ্রী রেখে বেতাগী উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ দখল করে রেখেছেন।উপজেলা জামে মসজিদে কর্তৃপক্ষ বারবার বলা সত্ত্বেও কোনো কর্ণপাত করেননি আওয়ামী লীগের এ নেতা।স্থানীয় পৌর মেয়র ও বেতাগী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন করে কোন ব্যবস্থা না করতে পেরে স্থানীয় স্ব স্ব জামে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান বেতাগী উপজেলা জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা আবদুল হাই নেছারী।

বেতাগী উপজেলা কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকার বাসিন্দা ও ওই মসজিদের মুসুল্লি মোতালেব মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টানা ২০ বছর ধরে এই ঈদগাহ ময়দানে নামাজ পড়ছি। প্রতি বছর হাজার মানুষ নামাজে অংশ নিলেও এবার নিজ এলাকার মসজিদে নামাজ পড়তে হবে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা প্রফেসর হুমায়ুন কবিরের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহৃত নির্মাণ সামগ্রী রেখে ঈদগাহ মাঠ দখল করে রাখার কারনে এই প্রথম ঈদগাহ ময়দানে নামাজ হবে না। এটা মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর।সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো ঈদগাহ ময়দানে ইট এবং বালু রাখা আছে। মাঠের উত্তর-পশ্চিম পাশে চলছে ব্যাক্তিগত বাড়ির কাজ। শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন সিমেন্ট-বালু মেশাতে। মাঠের পশ্চিম দিকে খোলা মাঠ সম্পূর্ণ ফাঁকা দেখা যায়।

ঈদগাহ ময়দান দখল করে কেন কাজ করা হচ্ছে এমন প্রশ্ন করলে শ্রমিকরা জানান, আমাগো এই জায়গায় কাজ করতে বলছে স্যারে তাই আমরা করতেছি।

এদিকে উপজেলা কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আবদুল হাই নেছারী বলেন, করোনার কারণে পূর্বে ঈদগাহতে নামাজ আদায় না করতে পারলেও, এবার নামাজ আদায় করার ইচ্ছা থাকলেও মাঠে ইট-বালু থাকায় নিজেদের মসজিদে নামাজ আদায় করতে হবে।এই বিষয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা প্রফেসর কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে অসংরক্ষিত থাকায় আমি কিছু ইট-বালু রেখেছি। অল্প সময়ের ভেতর কীভাবে মাঠ খালি করব।

অন্যদিকে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুহৃদ সালেহীন বলেন ইতোমধ্যে আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। দ্রুত ঈদগাহ মাঠ পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network