আপডেট: December 19, 2022
নদীর কূলে বসা প্যারালিসিসে আক্রান্ত রাবেয়া খাতুন। তাকে ঘিরে দুই হাতে তালি বাজিয়ে নাচ-গান করছে কথিত কবিরাজ আর কুমারী-কিশোরীরা। নাচ-গানের তালে ঝাড়ফুঁকের সাথে রোগীর শরীরে বাঁ পা দিয়ে লাথি মারছেন কবিরাজ আকালিয়া।
আজ সোমবার সকালের দিকে অপচিকিৎসার এমন দৃশ্য চোখে পড়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনা নদীর শহড়াবাড়ী ঘাট এলাকায়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাকশাপাড়া গ্রামের মোনছের আলীর স্ত্রী রাবেয়া খাতুন। দুই বছর ধরে তিনি প্যারালিসিসে আক্রান্ত। তাকে সুস্থ করতে কবিরাজের এমন আয়োজন। রোগীর বাড়িতে চলে ১৪ দিন ধরে চিকিৎসা। তারই ধারাবাহিকতায় রোগীর শরীরে দিতে হবে সাত ঘাটের পানি পড়া। তাই যমুনা নদীর ঘাটে এসেছেন তারা। সেখানে নাচ আর গানের তালে রোগীর শরীরে ছিটানো হচ্ছে পড়া পানি। একই সাথে থেমে থেমে চলে কবিরাজের মন্ত্রপাঠ। কবিরাজ আকালিয়া একই এলাকার দক্ষিণ পাইকপাড়া গ্রামের পিয়ার আলীর ছেলে।
বিশেষত প্যারালিসিসের চিকিৎসা করেন আকালিয়া। এ জন্য একজন রোগীর কাছ থেকে এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা ফি নেন। ঝাড়ফুঁকের সময় তার সঙ্গে চার-পাঁচজন কিশোরী থাকে। এরা সবাই ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তাদেরও কিছু সম্মানী দেন কবিরাজ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কিশোরী জানায়, এতে তাদের আনন্দ লাগে। রোগীও ভালো হয়।
কবিরাজ আকালিয়া বলেন, ‘প্রায় ৪০ বছর ধরে এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা করছি। এতে অনেকেই সুস্থ হয়েছে। ঝাড়ফুঁক করতে অনেক সময় লাগে। এ সময় রোগীরা বিরক্ত হয়। ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। তাই বিনোদনের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করা হয়। ’
রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘প্রায় দুই বছর ধরে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক ভালো ভালো ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিয়েছি। কিন্তু রোগ ভালো হয়নি। তবে এই কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নিয়ে আমি অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠছি। ’
ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সাদেকুর রহমান বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলে এসব কুসংস্কার এখনো আছে। এ ধরনের অপচিকিৎসার কোনো ভিত্তি নেই। রোগব্যাধি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই। গ্রামের মানুষের সরলতা আর অজ্ঞতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এমন অপচিকিৎসা শুধু অনিরাপদই নয়, থাকে মৃত্যুর ঝুঁকিও। ’

