আপডেট: August 20, 2026
উজিরপু প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের নয়াকান্দি ফুটব্রিজ থেকে দক্ষিণ সাতলা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। নির্মিত সড়কটি রক্ষায় পাইলিংয়ের কাজে জিও ব্যাগের পরিবর্তে পুরোনো পাটের বস্তায় মাটি ভরে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। এতে সড়ক রক্ষার কাজের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেসার্স তাসমিয়া এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়ক রক্ষার পাইলিংয়ের কাজ করছে। কিন্তু কাজে নির্ধারিত জিও ব্যাগের পরিবর্তে পুরোনো পাটের বস্তায় মাটি ভরে ব্যবহার করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পানির সংস্পর্শে থাকলে পাটের বস্তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় এভাবে পাইলিং কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক রক্ষার কাজে নির্ধারিত উপকরণের পরিবর্তে পুরোনো পাটের বস্তা ব্যবহার করা হলে প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একই সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত এলজিআরডি প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের তদারকি ও দায়িত্ব পালনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, জিও ব্যাগের পরিবর্তে পুরোনো পাটের বস্তা ব্যবহারের অনুমোদন আছে কি না? আর অনুমোদন না থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর তদারকির মধ্যেই এমন কাজ কীভাবে চলছে?
স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানিতে পাটের বস্তা দ্রুত নষ্ট হয়ে গেলে পাইলিং দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এতে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটি ফের ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে জনদুর্ভোগও বাড়তে পারে।এ বিষয়ে উপজেলা এলজিআরডি প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকল্পের নকশা ও কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হবে।”
এলাকাবাসী দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে পাইলিংয়ে ব্যবহৃত উপকরণের মান যাচাই এবং প্রকল্পের নকশা ও কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

