২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

শিরোনাম
খাগড়াছড়িতে সহস্রাধিক চাকমা নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান বরিশালে হাতপাখার পক্ষে প্রচারণায় ঝড় তুলেছেন নারী কর্মীরা পবিপ্রবির হলে রুম না পেয়ে প্রভোস্ট অফিসে শিক্ষার্থীদের তালা বিএনপি ক্ষমতায় এলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকার সমস্যার সমাধান করা হবে: তারেক রহমান পাথরঘাটায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণায় নারী হেনস্থার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন মানিকছড়িতে যুবককে গলা কেটে হত্যা চেষ্টা: দুই আসামি গ্রেফতার ফটিকছড়িতে সেনাবাহিনীর অভিযানে ২ সন্ত্রাসী আটক ‎বাটাজোড় অশ্বনী কুমার ইনস্টিটিউশনে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত বরিশালে দুর্নীতি মামলায় বিআরটিএর সাবেক সহকারী পরিচালক কারাগারে

আমতলীতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

আপডেট: মে ৭, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আব্দুল্লাহ আল মোমেন নিজাম, আমতলী:
বরগুনার আমতলীতে এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও বাজারে ধানের দাম ভালো। এতে লাভবান হবে কৃষকরা। কৃষকরা জানান, বাজারে ধানের দাম ভালো থাকায় লাভবান হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আমতলী আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবের মধ্যেও বাজারে ধানের দাম ভালো। এতে কৃষকরা অনেক লাভবান হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, এ বছর আমতলীতে বোরো চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়ছিল ১ হাজার ২’শ হেক্টর। ওই লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়েছে। কিন্তু গত বছরের তুলনায় এ বছর আমতলীতে বোরো ধানের আবাদ অর্ধেক হয়েছে। গত বছর কৃষকরা ধানের ভালো দাম না পাওয়ায় লোকসান দিয়েছে ফলে এ বছর আবাদ কম করেছে। বোরো ধান চাষের উপযুক্ত সময় মধ্য কার্তিক থেকে শুরু করে ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত। বীজতলা থেকে শুরু করে পাঁচ মাসের মধ্যে উচ্চ ফলনশীল বোরো ধানের ফলন আসে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারনে আমতলীর কৃষকরা এ বছর বোরো চাষে বিলম্ব করেছে। তাই ফলন আসতে বিলম্ব হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল জাতের বিরি-২৮, বিরি-২৯,বিরি-৪৭ ও বিরি-৫৮ ধান চাষ করছে কৃষকরা। বর্তমানে কৃষকরা ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পাড় করছে। এদিকে বাজারে ধানের দাম অনেক ভালো। শুরুতেই বাজারে প্রতিমণ ধান ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের কারনে বাজারে ধানের দাম নিয়ে কৃষকরা কিছুটা চিন্তিত থাকলেও সরকারের কৃষি পন্য বাজারজাত করনের পদক্ষেপে সেই চিন্তা কেটে গেছে এমনটাই জানালো কৃষকরা। কৃষকরা জানান, এক একর জমিতে উৎপাদন খরচ ৩০ হাজার টাকা। ওই জমিতে ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০-৬০ মণ। বাজারে প্রতিমণ ধান ৮০০-৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সে হিসেবে ওই জমিতে আয় হবে ৪০-৪৮ হাজার টাকা। বাজারে ধানের দাম ভালো থাকায় কৃষকরা এ বছর ভালো লাভবান হবে।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, উপজেলার কুকুয়া, হলদিয়া, চাওড়া, আমতলী সদর ও আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বোরো ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পাড় করছে কৃষকরা।
আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের সোহেল রানা বলেন, তিন একর জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে প্রতিমণ ধান ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ধানের দাম ভালো থাকায় স্বস্তিতে কৃষকরা। তিনি আরো বলেন, দু’এক দিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু করবো।
ঘোপখালী গ্রামের আফজাল শরীফ বলেন, এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে এবং বাজারে ধানের দামও ভালো। কৃষকরা এ বছর ভালোই লাভবান হবেন।
আমতলী উপজেলা আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন বলেন, বাজারে বিআর-২৮ ও বিআর-৪৭ দুই ধরনের ধান রয়েছে। উভয় ধানের মণ ৮’শ থেকে ৮’শ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এখনও পুরোদমে ধান বিক্রি শুরু হয়নি। তবে শুরুতেই বাজারে ধানের দাম ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হবে।
আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার সিএম রেজাউল করিম বলেন, এ বছর বোরো ধান চাষের লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়েছে। কিন্তু গত বছরের তুলনায় এ বছর বোরো চাষ ছিল অনেক কম। তবে এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আশাকরি কৃষকরা আগামীতে বোরো ধান চাষে আরও উৎসাহিত হবে। তিনি আরও বলেন, বাজারে ধানের দামও ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network