২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

শিরোনাম
হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জের প্রান্তিক ভোটাররা ঝুঁকছেন দাঁড়িপাল্লার দিকে বেয়াদবি করলে আগুনের ফুলকি দেখতে পাবা: ডা. শফিকুর রহমান গৌরনদী বার্থী ইউনিয়নে জহির উদ্দিন স্বপনের ব্যাপক গণসংযোগ বাকেরগঞ্জের ইউএনও, সার্কেল এএসপি ও পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জদের প্রত্যাহারের দাবি ভোলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মা-ছেলেসহ নিহত ৩ বানারীপাড়ায় সেনাবাহিনীর হাতে দণ্ডপ্রাপ্ত মাদক মামলার আসামি গ্রেপ্তার কুড়িগ্রামে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার সঠিক সময়ে পাচ্ছেনা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ খাগড়াছড়িতে জব ফেয়ার উদ্বোধন ও কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে সেমিনার কর্মস্থলে থাকেননা বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও

আড়াই মাসে নিজ হাতে কোরআন লিখলেন শাহাব উদ্দিন

আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০২৩

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

অনলাইন ডেস্ক:: ৩৫ বছর বয়সী শাহাব উদ্দিন। পেশায় মাদরাসাশিক্ষক। মাদরাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি আলাদা করে ব্যাচ আকারে দেন কোরআন শিক্ষা। পাঁচ ব্যাচে শ’খানেক শিক্ষার্থী তার। দুই মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে শাহাব উদ্দিনের পরিবার। সম্প্রতি হারিয়েছেন জন্মদাতা বাবাকে। বেঁচে আছেন মা। চলতি বছরটি সুখ-দুঃখ মিলিয়ে কেটেছে শাহাব উদ্দিনের- জানালেন তিনি নিজেই। সুখটি ছিল বাবা-মাকে নিয়ে পবিত্র ওমরা হজ পালন। আর দুঃখটি বাবা হারানোর। এরপরও যেন ভেঙে পড়েননি শাহাব উদ্দিন। চালিয়ে গেছেন শিক্ষকতা, সংসার ও কোরআন পাঠদান। সবকিছু সামলিয়ে করেছেন অসাধারণ এক কাজ। মাত্র দুই মাস ১৪ দিনেই নিজ হাতে লিখেছেন ৩০ পারা পবিত্র কোরআন। যা রীতিমত অবাক করেছে এলাকাবাসীসহ সবাইকে।

শাহাব উদ্দিনের হাতে লেখা পবিত্র কোরআন দেখতে প্রতিদিন তার বাড়িতে ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ। শাহাব উদ্দিন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের গামারিতল এলাকার বদিউল আলমের ছেলে।কথা হয় শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে বাইতুল্লাহ ও নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মোবারক দেখার ইচ্ছা ছিল। মহান আল্লাহ তায়ালা সেটি পূরণ করেছেন। গত জানুয়ারিতে বাবা-মাকে নিয়ে সৌদি আরব গিয়ে ওমরা হজ পালন করি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো হজ পালন শেষে বাড়ি ফেরার ১১ দিনের মাথায় বাবাকে হারিয়ে ফেলি। তাই বছরটি সুখ-দুঃখ দুটি মিলিয়েই কেটেছে আমার।

শাহাব উদ্দিন বলেন, আমাদের পাশের এলাকার তাহসিন আলম নামে এক কিশোর ৩০ পারা কোরআন নিজ হাতে লেখেন। সেটি নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয়। সেখান থেকে আমিও কোরআন লেখায় উদ্বুদ্ধ হই। গত আগস্টের ৪ তারিখ থেকে লেখা শুরু করি। শেষ হয় অক্টোবরের ১৮ তারিখ। ৩০ পারা কোরআন লিখতে মোট দুই মাস ১৪ দিন সময় লেগেছে আমার। মাদরাসায় শিক্ষকতা, সংসার সামলানো, পাঁচ ব্যাচে শিক্ষার্থীদের কোরআন পাঠদান; এসবের পাশাপাশি প্রতিদিন ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা কোরআন লেখায় ব্যয় করতাম। লিখতে লিখতে কখনো অনেক রাত হয়ে যেত।

পুরো কোরআনটি লেখতে ৬১১ পৃষ্টা কাগজ ও ৪২টি কলম ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান শাহাব উদ্দিন। প্রতিটি পারা সবুজ রংয়ের পেপার দিয়ে করেছেন পাণ্ডুলিপি। নিজ হাতে লেখা ৩০ পারা কোরআন জন্মদাতা বাবাকে উৎসর্গের কথা জানান তিনি।

শাহাব উদ্দিনের শিক্ষক শীতলপুর গাউছিয়া দাখিল মাদরাসার মাওলানা ইব্রাহিম খলিল বলেন, মাত্র দুই মাস ১৪ দিনে ৩০ পারা পবিত্র কোরআন হাতে লিখেছেন শাহাব উদ্দিন, যা বিস্ময়কর ব্যাপার। আমি তার সফলতা কামনা করি।আরেক শুভাকাঙ্ক্ষী মো. কামাল উদ্দিন বলেন, পুরো ৩০ পারা পবিত্র কোরআন হাতে লেখা সহজ কাজ নয়। আমাদের বড় ভাই শাহাব উদ্দিন যেটি করেছেন, সেটি আমাদের জন্য গর্বের। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network