৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

এবার দানবীর ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনের সব দায়িত্ব নিলেন সরকার

আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
অনলাইন ডেস্কঃ শেরপুরের ঝিনাইগাতীর সেই ভিক্ষুক নজিমুদ্দিনকে উপহার হিসাবে বাড়ি দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর জেলা প্রশাসনের পক্ষ দেয়া হবে একটি মুদি দোকান। সে সঙ্গে বুধবার দুপুরে ডিসি’র সম্মেলন কক্ষ রজনীগন্ধায় তাকে (নজিমুদ্দিন) দেয়া হয়েছে সংবর্ধনা।

মঙ্গলবার বিকেলে কর্মহীনদের খাদ্য সহায়তার জন্য ইউএনও’র ত্রাণ তহবিলে গত দুই বছরের সঞ্চয় ১০ হাজার টাকা দান করেন ওই ভিক্ষুক। নিজের ভাঙা বসতঘর মেরামত করার জন্য ভিক্ষা করে ওই টাকা তিনি জমিয়েছিলেন।এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপরই তিনি প্রয়োজনীয় সব নির্দেশ দেন।
ভিক্ষুক নজিম উদ্দিনের জীর্ণ বসতঘর।

ভিক্ষুক নজিম উদ্দিনের জীর্ণ বসতঘর।

এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলার ইউএনও রুবেল মাহমুদকে ফোন দেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব। সে নির্দেশ অনুযায়ী রাতেই ভিক্ষুক নজিমউদ্দীনের বাড়ি যান ইউএনও।

ইউএনও রুবেল মাহমুদ বলেন, কর্মহীন মানুষদের খাদ্য সহায়তার জন্য খোলা করোনা তহবিলে ভিক্ষুক নজিমউদ্দীন ১০ হাজার টাকা দান করেন। পরে এ সংবাদটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। আর এ সংবাদটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এর পরপরই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফোন করে ওই ভিক্ষুকের জন্য বাড়ি ডিজাইন এবং প্রাক্কলন তৈরি করে পাঠানোর জন্য বলা হয়। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও দেবে সরকার।তিনি আরো বলেন, নজিমউদ্দীনের বসতভিটার কাগজপত্র দেখা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায় তার জমির কাগজ নিষ্কণ্টক নয়। তাই তাকে উপজেলা শহরের কাছাকাছি সরকারি খাস জমি থেকে ১২ শতাংশ জমি দেয়া হবে। আর একটি বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হবে।

এডিসি (সার্বিক) এবিএম এহসানুল মামুন বলেন, ভিক্ষুক নজিমউদ্দীনকে বাড়ি নির্মাণ করে দেয়ার পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি মুদি দোকান দেয়া হবে।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ঘরবন্দী হয়ে পড়া কর্মহীন হতদরিদ্র মানুষদের সরকারি ও বেসরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। গত রোববার ঝিনাইগাতীর ইউএনও রুবেল মামুদের নির্দেশে খাদ্য সহায়তার জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন `দি প্যাসিফিক’ ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্যরা কর্মহীন অসহায় দরিদ্র মানুষদের তালিকা প্রণয়নে গান্ধীগাঁও গ্রামে যান।এ সময় ভিক্ষুক নজিমুদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তাকে ইউএনও’র পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী দেয়া হবে বলে জানানো হয়। পরে তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখতে চান তারা। ভিক্ষুক নজিমুদ্দিন ওই তালিকায় তার নাম না ওঠানোর জন্য অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, নিজের বসতঘর মেরামত করার জন্য গত দুই বছরে ভিক্ষা করে জমিয়েছেন ১০ হাজার টাকা। এ টাকা স্বেচ্ছায় বর্তমান পরিস্থিতিতে অসহায়দের খাদ্য সহায়তার জন্য ইউএনও’র ত্রাণ তহবিলে দান করতে চান তিনি।পরে মঙ্গলবার ওই ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে ইউএনও’র হাতে ১০ হাজার টাকা তুলে দেন নজিমুদ্দিন। নজিমুদ্দিনের বাড়ি উপজেলার কাংশা ইউপির গান্ধীগাঁও গ্রামে। সে ওই গ্রামের ইয়ার আলীর ছেলে।

 

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network