আপডেট: October 26, 2026
পটুয়াখালী কলাপাড়া প্রতিনিধি:: ঢাকা পোস্টের পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি এসএম আলমাসের বাবা হাফেজ শিকদারের (৭০) জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা খানকা সাহালিয়া কমপ্লেক্স মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে কুয়াকাটা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়ির সামনে তাকে দাফন করা হয়।বিনা পারিশ্রমিকে মানুষের শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি হিসেবে জীবদ্দশায় ৩৯৬টি কবর খনন করেছিলেন হাফেজ শিকদার। মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও নিঃস্বার্থ সেবার এই অনন্য দৃষ্টান্ত তাকে স্থানীয়দের কাছে করে তুলেছিল অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ।
হাফেজ শিকদারের জানাজায় স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন। তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সদালাপী, সৎ ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে পরিচিত হাফেজ শিকদারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। শোক জানিয়েছে ঢাকা পোস্ট পরিবারও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় কারও মৃত্যুর খবর পেলেই দাফনের প্রস্তুতিতে সহযোগিতা করতে ছুটে যেতেন হাফেজ শিকদার। দীর্ঘদিন ধরে বিনা পারিশ্রমিকে তিনি মানুষের শেষ বিদায়ের জন্য কবর খনন করে আসছিলেন। এ পর্যন্ত নিজ হাতে ৩৯৬টি কবর খনন করেছেন তিনি। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এই মানবিক কাজের জন্য তিনি এলাকাবাসীর হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।হাফেজ শিকদারের মেজো ছেলে মো. হারিস শিকদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এলাকা ও আশপাশে কারও মৃত্যুর খবর শুনলেই বাবা কবর খুঁড়তে ছুটে যেতেন। তার ইচ্ছা ছিল, আরও চারটি কবর খননের মাধ্যমে সংখ্যাটি ৪০০ পূর্ণ করবেন। কিন্তু তার আগেই তিনি চলে গেলেন। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। এলাকার সবাই তাকে শ্রদ্ধা করতেন। কারও মৃত্যুর খবর পেলেই তিনি শেষ বিদায়ের ঘর তৈরিতে ছুটে যেতেন। আজ তার জানাজায় হাজার হাজার মানুষ ছুটে এসেছেন শুধু তাকে ভালোবেসে। আল্লাহ তাআলা যেন তাকে জান্নাত দান করেন।’
মরহুমের ছোট ছেলে এসএম আলমাস বলেন, ‘বাবা গতকালও আমাদের মাঝে ছিলেন, কিন্তু আজ আর নেই। তিনি আগে থেকেই বাড়ির সামনে নিজের জন্য কবরের জায়গা প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। এমনকি নিজের কাফনের কাপড়ও দোকানে কিনে রেখে গিয়েছিলেন। বাবা আমাদের ছয় ভাই-বোনকে খুব ভালোবাসতেন। এলাকার সবাই তাকে খুব পছন্দ করতেন।’কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, ‘আলমাসের বাবা হাফেজ শিকদার চাচা অত্যন্ত সদালাপী ও পরোপকারী মানুষ ছিলেন। তিনি এ পর্যন্ত ৩৯৬ জনেরও বেশি মানুষের জন্য কবর খুঁড়েছেন। তিনি অত্যন্ত ধর্মভীরু ছিলেন। এমন একজন মানুষকে হারিয়ে আমরা কুয়াকাটাবাসী গভীরভাবে শোকাহত।’
এর আগে রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাফেজ শিকদারের মৃত্যু হয়। তিনি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাফেজ শিকদার দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে নিজ বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সন্ধ্যায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

