আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
আমাদের জীবনের চাইতে মা-বোনদের ইজ্জতের দাম অনেক বেশি। বেয়াদবি করলে আগুনের ফুলকি দেখতে পাবা। কাউকে আমরা ছেড়ে কথা বলব না। যুক্তি নিয়ে আসো, কর্মসূচি নিয়ে আসো। ভদ্রভাবে, শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনি মাঠে তোমার মতো করে তুমি খেলো। কিন্তু ফ্যাসিবাদী চেহারা নিয়ে কেউ যদি আমাদের সামনে আসে তাহলে লাল কার্ড দেখিয়ে দেওয়া হবে। সোমবার (২৬শে জানুয়ারি) বিকালে চুয়াডাঙ্গা শহরের টাউন ফুটবল মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা জেলার মানুষ শিক্ষিত, ভদ্র ও শান্তিপ্রয়, কিন্তু দুর্বল নয়। তারা ন্যায়ের পক্ষে একেবারেই তরল। তবে এ জেলার চাঁদাবাজি রুখতে হলে ২৪ এর ৫ই আগস্ট যেমন একটি বিপ্লব হয়েছিল আবার ২৬ এর ১২ই ফেব্রুয়ারি একই ধরনের বিপ্লব ঘটাতে হবে। সেই ২৪ এর বিপ্লব হয়েছিল বুলেটের বিরুদ্ধে আর এবারের বিপ্লব হবে ব্যালটের মাধ্যমে। দেশে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েমের জন্য, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য, আধিপত্যবাদের কবল থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার জন্য, চাঁদাবাজি ও হয়রানিমূলক রাজনৈতিক পুরানো বস্তা পঁচা ব্যবস্থাকে তছনছ করার জন্য এই নির্বাচনে ১১ দলের ২২টি হাত আমরা একত্রিত হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা চুয়াডাঙ্গার জনগণ যদি আমাদের উপর আস্থা রেখে এই দুইটা আসন ১১ দলের পক্ষে বিজয় করে দেন, আমরা কথা দিচ্ছি আমাদের উপর আস্থা রাখার জন্য আমরা আপনাদের উপর কৃতজ্ঞ থাকব। যে পাঁচ বছরের জন্য রায় দিচ্ছেন সেই পাঁচ বছর আপনাদের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘সম্মানিত যুবসমাজ, তোমাদের হাতে আমরা বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না। তোমাদের কর্মমুখী করতে চাই। তোমাদের হাতগুলোকে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে তৈরি করে তোমাদের হাতে সম্মানের কাজ তুলে দিতে চাই। আর এ কারিগর বানানোর জন্য যে শিক্ষার প্রয়োজন আমরা সেই শিক্ষাটা ছাত্রসমাজের হাতে তুলে দিতে চাই।’
জামায়াতের আমির বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা জেলার কেরু কোম্পানির সুগার মিল দেশের বৃহত্তম সুগার মিল। এখন নাকি এটা খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটে। আমরা কথা দিচ্ছি সবগুলো মিল-ফ্যাক্টরি জীবন্ত করে তুলব। কোনো অবস্থাতেই চুরিচামারি ও লুটপাট করতে দেওয়া হবে না।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমির অ্যাড. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক মোবারক হোসাইন। জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রার্থী অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থী অ্যাড. রহুল আমিনের হাতে ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।
আমিনুর রহমান নয়ন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।

