২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

ক্ষমা নেই, তুই রাজাকার

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

ক্ষমা নেই, তুই রাজাকার

নাঈমুল ইসলাম খান: [১] ২৫ মার্চ ১৯৯২ সন্ধ্যায় ভোরের কাগজ অফিসে বার্তা সম্পাদক আহমেদ ফারুক হাসানকে বললাম, ‘ক্ষমা নেই, তুই রাজাকার’ আগামী কালের পত্রিকায় আপারফোল্ডে ডি/সি দিও।

[২] আহমেদ ফারুক হাসান আপত্তি জানালো। বললো এই সিরিজের ক্যারিক্যাচার নিয়মিত নিচের বামকোণায় সিঙ্গেল কলাম যায়। এর ব্যতিক্রম করার কোনো যুক্তি নেই। আমি বললাম এটা সম্পাদক হিসেবে আমার আগ্রহ/ভাবনা, তুমি শিশির ভট্টাচার্যের কার্টুন ডি/সি মাপে পসিটিভ করে নিও।

[৩] তারপর এই সময়ে সাধারণত আমি বাসায় চলে যাই, আবার আসি রাত ১০ টায়। এটাই মোটামুটি আমার রুটিন। বাসায় এর মধ্যে আমি গোসল করি, কিছু খাই, তারপর আবার অফিসে আসি।

[৪] বাসা থেকে অফিসে আবার এসেই সোজা গেলাম ডার্ক রুমে যেখানে পসিটিভ বানানো হয়।

[৫] সেখানে দেখলাম অন্যান্য দিনের মতো সিঙ্গেল কলাম পসিটিভ করা হয়েছে। ফারুক আমার সিদ্ধান্ত মানেনি।

[৬] তখন আমি ডার্ক রুমে নির্দেশ দিলাম শিশিরের ২৬ মার্চের পত্রিকার জন্য গোলাম আজমের ক্যারিক্যাচারটি যেন পূর্ণ পৃষ্ঠা মাপে পসিটিভ বানানো হয়।

[৭] তারপর বার্তাকক্ষে আহমেদ ফারুক হাসানের কাছে গেলাম। আমাকে দেখে সে প্রসন্ন নয়, মুখ গোমরাহ।

[৮] আমি ফারুককে বললাম ব্যাক পেজ এর সকল আইটেম ভিতরের কোনো পৃষ্ঠায় নিয়ে যাও সেখানে গোলাম আজমের পূর্ণ পৃষ্ঠার ক্যারিক্যাচার যাবে।

[৯] ২৬ মার্চ ১৯৯২ ছিলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুদ্ধাপরাধী, ঘাতক, গোলাম আজমের বিচারে গণ আদালত।

[১০] ভোরের কাগজ মাত্র কিছুদিন আগে ১৫ ফেব্রুয়ারী যাত্রা শুরু করেছে। গণ আদালতের এই দিনে ভোরের কাগজ শেষ পৃষ্ঠায় পূর্ণ পাতায় গোলাম আজমের কার্টুন ছাপায় সেদিন নজির বিহীন ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। অসাধারণ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিলো।

[১১] গণ আদালতের দিন ভোরের কাগজের এই কার্টুন অনেকে প্ল্যাকার্ড বানিয়েছে, অনেকে বুকে, অনেকে পিঠে আবার অনেকে সাইকেলের সামনে ঝুলিয়ে ঢাকা বিশাববিদ্যালয় সহ সারা ঢাকা শহর ঘুরেছে। সারাদেশ থেকেও একই রকম প্রতিক্রিয়া আমরা জেনেছি।

[১২] সেদিনের এই ব্যতিক্রমি সিদ্ধান্তের জন্য আমি সবসময় আনন্দ ও গৌরব বোধ করি।

এই প্রতিবেদনের অনুলেখনে : ফাহমিদা তিশা

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network