১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

ইন্টারনেটে সন্তান কী করছে? বিপদ ঘটার আগেই জানুন করণীয়

আপডেট: নভেম্বর ১৬, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

অনলাইন ডেস্ক:: মাত্র ১৩ বছর বয়সেই সোফি পার্কিনসন আত্মহত্যা করে। সে মানসিক অবসাদে ভুগছিল। এ কারণে সে আত্মহত্যার পথ খুঁজছিলো। তার মা রুথ মস-এর বিশ্বাস সোফি অনলাইনে যেসব ভিডিও দেখেছে সেগুলো থেকে সে আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয়েছে। শুধু সোফি নয় বরং বিশ্বের অনেক শিশু-কিশোর অকালে ঝরে যাচ্ছে।

অনেক তরুণের মতো সোফিকেও তার মা মাত্র ১২ বছর বয়সেই স্মার্টফোন কিনে দেন। এর কিছুদিন পর সোফির মা সন্দেহ করেন তার সন্তান ইন্টারনেটে খারাপ কিছু কন্টেন্ট দেখছে, যা তার জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়।আমার পরিবারের জন্য সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার হলো যখন মৃত্যুর পর আমরা জানতে পারলাম, সে এমন কিছু ছবি আর গাইড দেখেছে যেখানে কীভাবে আত্মহত্যা করতে হয় তার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে, এমনটিই জানিয়েছেন সোফির মা।

ব্রিটেনের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ অফকম-এর তথ্যানুযায়ী, ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের শতকরা ৯০ জনের হাতে মোবাইল ফোন রয়েছে। এদের প্রতি চার জনের মধ্যে তিনজনের এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অ্যাকাউন্টও রয়েছে।

ব্রিটেনের শিশু রক্ষা চ্যারিটি ন্যাশনাল সোসাইটি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ক্রুয়েল্টি টু চিল্ড্রেন্স (এনএসপিসিসি) বিশ্বাস করে, শিশুরা এসব কন্টেন্ট দেখে যে ঝুঁকির মুখে পড়ছে তা বিবেচনা করার জন্য আইন তৈরি করে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করা উচিত।

আইন অনুযায়ী, জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ১৩ বছর বয়সের নীচে কাউকে অ্যাকাউন্ট খুলতে দেয়ার কথা না। তা সত্ত্বেও শিশুরা এসব অ্যাকাউন্ট তৈরি করছে এবং তাদের ঠেকাতে কোনো কৌশল। অবলম্বন করছে না সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো।

‘সেফটুওয়াচ’ নামে একটি কোম্পানি এক সফটওয়্যার তৈরি করছে যা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহিংসতা কিংবা নগ্নতার ছবি তাৎক্ষণিকভাবে ব্লক করতে পারবে। এই সফটওয়্যারটি অডিও মনিটর করতে পারে এবং যে কোনো ভিস্যুয়াল কন্টেন্টের প্রাসঙ্গিকতা বিশ্লেষণ করতে পারে।

কোম্পানিটি বলছে, এর ফলে অভিভাবক যেমন তাদের ছেলে-মেয়েদের সুরক্ষা দিতে পারেন, তেমনি তরুণদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

সোফি ও তার মা

কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড পার্সি বলছেন, তরুণরা কী করছে আমরা সেটা অন্য কাউকে দেখতে দেই না। কারণ সাইবার নিরাপত্তার জন্য যা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা হলো শিশুর আস্থা অর্জন করা।

খোলামেলা আলোচনা করুন

অনেক সময় শিশুদের বখে যাওয়ার কারণে অভিভাবককে দোষ দেয়া হয়। শিশুরা যত বড় হতে থাকে, যতই স্বনির্ভর হতে থাকে প্রযুক্তি দিয়ে তাদের সাহায্য করার সুযোগ ততই সীমিত হয়ে পড়ে। টিনএজ সন্তানের মোবাইল ফোনে কী ঘটছে বেশিরভাগই মা-বাবাই তা জানতে পারেন না কিংবা নজর রাখতে পারেন না।

মনস্তত্ত্ববিদ ড. লিন্ডা পাপাডোপুলাস বলছেন, নিরাপদ জীবন যাপনের জন্য অন্যান্য বিষয়ে যেভাবে শিশুদের শিক্ষা দেয়া হয়, তেমনি অনলাইনে নিরাপদ থাকার দক্ষতাও শিশুদের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে।

বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞই মনে করেন, বেশিরভাগ শিশুই কোনো না কোনো সময়ে অনলাইনে এ ধরনের অনুপযুক্ত কন্টেন্টের মুখোমুখি হবে। তারা পরামর্শ দিচ্ছেন, শিশুদের মধ্যে ‘ডিজিটাল প্রতিরোধ’ ক্ষমতা বাড়াতে হবে।

অনলাইনে কী ধরনের বিষয়বস্তু রয়েছে সে সম্পর্কে ছেলে-মেয়েদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে, এবং কীভাবে তারা এসব বিষয় থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে সেই শিক্ষাও দিতে হবে। তিনি জানান, অনলাইনে পর্নোগ্রাফি দেখার সুযোগ হয়েছে যেসব শিশুর তাদের বয়স গড়ে ১১ বছর।

তার পরামর্শ হচ্ছে, যদি আপনার সন্তান এরকম কিছু করে, তাহলে তার হাত থেকে মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিবেন না। বরং তার সঙ্গে বসে বিষয়টি তাকে বুঝিয়ে বলুন। সূত্রঃ বিবিসি

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network