আপডেট: জুলাই ৮, ২০২২
বরগুনা প্রতিনিধি:: ঈদুল আজহা সামনে রেখে অস্থির হয়ে উঠছে মসলার বাজার। বরগুনার আমতলী, তালতলী উপজেলাসহ উপকূলের বিভিন্ন হাট-বাজারে গরম মসলার দামে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে স্বল্প ও নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে মসলার দাম।
সরেজমিনে আমতলী ও তালতলী শহরের একাধিক মুদি-মনিহারি দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, গত বছর ঈদুল আজহার আগে এক কেজি রসুন ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, এ বছর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পেঁয়াজ ছিল ২৮ থেকে ৩৫ টাকা, এখন ৪৫ থেকে ৫২ টাকা, আদা ছিল ১৫০ টাকা এখন ২০০ থেকে ২২০ টাকা, জিরা ছিল ৪০০ টাকা এখন ৪৫০ টাকা, গোলমরিচ ছিল ১৮০ টাকা বর্তমানে ২০০ টাকা।
আমতলী পৌর শহরের খলিল মহাজন ও লাল মিয়ার দোকান ঘুরে দেখা গেছে, রসুন, পেঁয়াজসহ আমদানি করা মসলার বেঁধে দেওয়া সরকারি দাম কোনো ব্যবসায়ীরা মানছেন না। পাইকারি থেকে ছোট দোকানদাররা পর্যন্ত একে অপরকে দোষারোপ করেই নিজের দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন।
আমতলী পৌর শহরের মসলা ব্যবসায়ী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ঢালাওভাবে বলা হচ্ছে, বাজারে দোকানদাররা সব মসলার দাম বাড়িয়েছেন, এটা সঠিক নয়। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মহাজনদের কাছ থেকে আমাদের বেশি দামে মসলা কিনতে হচ্ছে। তাই আমরাও ক্রেতাদের কাছে বেশি দামে মসলা বিক্রি করছি।
আমতলী পৌরশহর নতুন বাজারে একটি মুদি-মনিহারি দোকানে মসলা কিনতে আসা ক্রেতা মো. দেলোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মসলার বাজারে কি সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বিক্রেতারা প্রতিটি মসলার গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দাম চাচ্ছে। আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষ কিভাবে কোরবানির জন্য এত দামে মসলা কিনব।
তালতলী বাজারে মসলা ক্রয় করতে আসা আ. মোতালিব ও ইউসুফ মিয়া জানান, কোরবানি সামনে রেখে বাজারে মসলার যে দাম তা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কেনা সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা মাফিক দাম বাড়াচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়বে।এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম আবদুল্লা বিন রশিদ মুঠোফোনে বলেন, মসলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আজকেই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

