আপডেট: জুলাই ৩, ২০২৩
ঝালকাঠি প্রতিনিধি:: ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে তেলবাহী জাহাজ সাগর নন্দিনী-২ বিস্ফোরণের ঘটনায় নিখোঁজ চারজনের মধ্যে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৩ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএ যৌথভাবে সুগন্ধা নদীতে অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরণে ডুবে যাওয়া জাহাজের মাস্টার ব্রিজের ভেতর থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন- জাহাজের মাস্টার রুহুল আমিন খান ও সুপারভাইজার মাসুদুল আলম বেল্লাল। বরিশাল কোস্টগার্ডের অপারেশন অফিসার মো. শাফায়েত লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।গতকাল রবিবার দুপরে জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষ থেকে জাহাজের গ্রিজার আব্দুস সালাম হৃদয়ের লাশ উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। এ নিয়ে নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হলো। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন জাহাজের চালক সরোয়ার হোসেন।
বরিশাল কোস্টগার্ডের অপারেশন অফিসার মো. শাফায়েত জানান, বরিশাল থেকে আসা উদ্ধারকারী জাহাজ নির্ভিক সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের ডুবে যাওয়া মাস্টার ব্রিজ উদ্ধারে কাজ শুরু করে।
মাস্টার ব্রিজের ভেতর থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়াও জাহাজের ভেতর থেকে সাগর নন্দিনী কম্পানির অপর একটি জাহাজের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত সাত লাখ লিটার পেট্রল ও ডিজেল সরিয়ে ডিপোতে নেওয়া হয়েছে। বিস্ফোরণের সময় জাহাজের মধ্যে ১১ লাখ লিটার জ্বালানি তেল ছিল। উদ্ধারকাজে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ সহযোগিতা করছে।এদিকে, বিস্ফোরণের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটি পরিদর্শন করেছে। তারা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীসহ উদ্ধারকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
সাগর নন্দিনি-২ নামের জাহাজটি ঝালকাঠি শহরের সুগন্ধা নদীর তীরে ডিপোতে তেল খালাস করা জন্য ১১ লাখ লিটার পেট্রোল ও ডিজেল ভর্তি করে আসে। জাহাজটিতে নোঙর করা অবস্থায় নদীর অপর প্রান্তে শনিবার দুপুর ২টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে আগুন লেগে যায়। আগুনে দগ্ধ হন জাহাজের শ্রমিক শাকিল (৩৫), ফরিদুল আলম (৫০), ইকবাল হোসেন (২৭) ও মাইনুল ইসলাম হৃদয় (২৯)।তারা ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিট ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

